• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • মঙ্গলবার , ১ জুলাই ২০২৫ ,২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রকৌশল সংবাদ

    প্রকৌশলী মনছুরুল হকের ছত্রচ্ছায়ায় রৌমারীতে মাটি দিয়ে সড়ক!

      নিজস্ব প্রতিনিধি ১ জুলাই ২০২৫ , ৫:০৪:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ

    Oplus_131072

    কুড়িগ্রামের রৌমারীতে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনছুরুল হকের প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়ে প্রকাশ্যে সরকারি অর্থের অপচয় ও নির্মাণ জালিয়াতি চলছে। কোটি টাকার প্রকল্পে মানহীন সামগ্রী ব্যবহার করে মাটি, ভাঙা ইট ও ধুলাবালি দিয়ে নির্মিত হচ্ছে সড়ক, আর প্রকৌশলী সাহেব দেখেও দেখছেন না—বরং ব্যবস্থাপনাকে করছেন সহায়ক।

    রংপুর বিভাগের “কৃষি ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (জঅউঅজউচ)” এর আওতায় ২০২৪–২৫ অর্থবছরে রৌমারী উপজেলায় ৬ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে বরাদ্দ পাওয়া চারটি প্যাকেজের কাজ চলছে অবাধে অনিয়মে। প্রকল্পের মূল ঠিকাদার বেলাল কনস্ট্রাকশন কাজ ‘বিক্রি’ করেছে স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা সাব-ঠিকাদার মো. স্বজীব আহমেদের কাছে। আর তিনিই এখন মাটি ফেলে, ভাঙা ইট গুঁজে রাস্তা বানিয়ে যাচ্ছেন—প্রকৌশলী মনছুরুল হকের পূর্ণ প্রশ্রয়ে।

    সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার কাজ চলছে নিচু জমির মাটি দিয়ে; ইটের জায়গায় ব্যবহার হচ্ছে ভঙ্গুর, হাতে ধরলেই গুঁড়ো হয়ে যাওয়া নিম্নমানের সামগ্রী। অথচ প্রকৌশলী মনছুরুল হক প্রথমে স্বীকার করলেও পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আপনি যা দেখছেন, তা-ই লিখুন। আমার বক্তব্য চাইলে লিখিত আবেদন করুন।” যেন একজন দায়বদ্ধ সরকারি কর্মকর্তা নয়, বরং ক্ষমতাবান তৃতীয় পক্ষ।

    অথচ সড়কের কাজে অনিয়ম নিয়ে স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগ করার পরপরই ইউএনও উজ্জল কুমার হালদার সরেজমিন পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দেন এবং নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেন। কিন্তু অদৃশ্য যোগসূত্রে আবার শুরু হয় সেই পুরোনো কাজ—একই ইট, একই মাটি, কিন্তু এবার উপজেলা প্রকৌশলীর নীরব অনুমতিতে।

    এ প্রসঙ্গে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মিঠুর মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ: “উপজেলা প্রকৌশল অফিসকে ম্যানেজ করেই কাজ করছি। কিছুটা নিম্নমানের হলেও সমস্যা হয়নি।” আর স্বজীব আহমেদ বলেন, “ম্যানেজের অভিযোগ সঠিক না”—তবে কাজটা চলছে কীভাবে, সেটি নিয়ে একটিবারও প্রশ্ন করেননি প্রকৌশলী সাহেব।

    উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে মনছুরুল হকের দায়িত্ব ছিল সরকারি অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় নিশ্চিত করা, কিন্তু বাস্তবে তিনি যেন দায়িত্ব নয়, দালালি করতেই বেশি ব্যস্ত। তাঁর নীরবতা এবং দ্বিচারিতা প্রশ্ন তুলেছে—এই প্রকল্পে প্রকৃত সুবিধাভোগী কে?

    রৌমারীর জনগণ উন্নয়ন চেয়েছিল, প্রকৌশলী মনছুরুল হকের ছত্রচ্ছায়ায় তারা পেয়েছে লুটপাট, নিম্নমান আর দুর্নীতির মোড়কে মোড়া মাটি দিয়ে রাস্তা। এ যেন উন্নয়নের নামে কবর খোঁড়ার আয়োজন।