• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • শুক্রবার , ১৮ জুলাই ২০২৫ ,১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রকৌশল সংবাদ

    পঞ্চগড় এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ জামানের হরিলুট : রাস্তা হয়নি, বিল খেয়েছে সিন্ডিকেট

      নিজস্ব প্রতিনিধি ১৮ জুলাই ২০২৫ , ৮:৪৯:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ

    উপজেলার উন্নয়নের নামে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় চলেছে ভয়াবহ দুর্নীতির মহোৎসব। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাতের নজিরবিহীন কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ জামান এই দুর্নীতির মূল হোতা হিসেবে প্রকাশ্যে চিহ্নিত হয়েছেন। তার প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায়, তার নির্দেশেই এ দুর্নীতির উৎসব চলছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

    উপজেলার তিরনই আরএন্ডএইচ-সিপাইপাড়া হয়ে কাশিমগঞ্জ পর্যন্ত ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কের কাজ গত ৯ মাসেও এক-চতুর্থাংশও অগ্রসর হয়নি। অথচ অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এই সড়কের বিল ইতোমধ্যেই কোটি টাকার ঘরে পৌঁছে গেছে। কীভাবে? – এই প্রশ্ন আজ সচেতন মহলের মুখে মুখে।

    প্রকল্পের তথ্য বলছে, ১ কোটি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯২৮ টাকা চুক্তিমূল্যে বোদা উপজেলার ‘মোতাহার এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর কাজ শুরু হয়। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ২ জুন। অথচ ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ২০০ মিটার রাস্তার কাজ বাকি পড়ে আছে।

    সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার মাত্র প্রথম স্তরে বালু ও নিম্নমানের খোয়া ফেলে দায়সারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। পুরো প্রকল্প জুড়েই মানহীন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ স্থানীয়দের।

    এলাকাবাসী বলছেন, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশ ছাড়া সরকারি অর্থ এইভাবে হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া এলজিইডির সার্ভেয়ার জয়নাল আবেদীন, দায়িত্বপ্রাপ্ত সাইড ইঞ্জিনিয়ার ও নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ জামান এই দুর্নীতির সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

    অভিযোগ আরও আছে, প্রকল্প চলাকালীন উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান ছুটিতে গেলে সদরের প্রকৌশলী রমজান আলী মাত্র তিন দিনের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে প্রকল্প পরিদর্শন ছাড়াই বিল অনুমোদনের নাটক সাজান। সেই নাটক মঞ্চস্থ করতে মাহমুদ জামানই ছিলেন প্রধান নির্দেশক।

    বিল অনুমোদনের জন্য তারা ‘আইবাস’ সিস্টেমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেও প্রকৃতপক্ষে বিল ছাড়ের নামে কোটি টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাতই ছিল তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। এভাবে প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলনের নোংরা খেলা খেলেছেন তারা।

    স্থানীয়রা বলছেন, এ সিন্ডিকেট মূলত সরকারি কোষাগারকে তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভেবে চলছে। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ আর জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এসব প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

    এলাকার সচেতন মহল বলছে, পঞ্চগড় জেলার এলজিইডির মধ্যে তেঁতুলিয়া এখন সবচেয়ে বড় দুর্নীতির আখড়া। নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ জামান ও তার পৃষ্ঠপোষকতাধীন প্রকৌশলীরা এই দুর্নীতির হোতা।

    জনগণের প্রশ্ন, যেখানে ৯ মাসে রাস্তার কাজই শেষ হয়নি, সেখানে কীসের ভিত্তিতে কোটি টাকার বিল উত্তোলন হলো? কোন অদৃশ্য শক্তির বলয়ে এই সব অনিয়ম পার পেয়ে যাচ্ছে?

    চলবে….