এম এইচ মুন্না ২৮ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:০৭:২৯ প্রিন্ট সংস্করণ
একই দিনে ২৭টি প্রকল্পের চুক্তিপত্রের সিলমোহর আর পরদিনই সম্পূর্ণ বিলের অবিশ্বাস্য অর্থ ছাড় কিশোরগঞ্জের গণপূর্ত বিভাগের অন্দরে যেন সরকারি অর্থ লোপাটের এক ভৌতিক রূপকথা লিখে বসলেন নির্বাহী প্রকৌশলী মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর! বিগত ২১ সেপ্টেম্বর গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দপ্তরে ১৪ জন ক্ষুব্ধ ঠিকাদারের লিখিত অভিযোগ জমা পড়তেই প্রকাশ পায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের নজিরবিহীন অনিয়মের আখ্যান; যেখানে অভিযোগ উঠেছে, শতকরা ৮০ ভাগ কাজ এলটিএম (LTM) পদ্ধতিতে করার বাধ্যতামূলক আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে অন্তত ৩৫টি টেন্ডার ক্ষমতার দাপটে ওটিএম (OTM) প্রক্রিয়ায় রূপান্তর করা হয়েছে এবং সংবাদপত্র বা ই-জিপি পোর্টালে কোনো উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করেই গোপন আঁতাতের মাধ্যমে পছন্দের হাতেগোনা ৫-৬ জন ঠিকাদারের মাঝে পুরো অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে দেওয়া হয়েছে।
আরও অভিযোগ উঠেছে, ২০২৬ সালের ২১ জুন কিশোরগঞ্জ মডেল মসজিদের ২৭টি কাজের জন্য ওটিএম দরপত্র আহ্বান করে ২২ জুন রাতারাতি চুক্তিপত্র সম্পন্নপূর্বক পরদিনই অর্থাৎ ২৩ জুন পুরো বিল পরিশোধের অলৌকিক মহড়া চালানো হয়েছে এবং পুরোনো বকেয়া বিল আটকে রেখে ভুয়া বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ খসানো হয়েছে। যদিও অন্যপক্ষের ঠিকাদারা একে মনগড়া ষাজিশ দাবি করে প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছেন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর পুরো অভিযোগকে চরম অবাস্তব ও ভিত্তিহীন বলে সজোরে উড়িয়ে দিয়েছেন।
জানা যায়, সমাপ্ত ৯টি মডেল মসজিদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে ৩টি ভিন্ন কোডে পণ্য ক্রয়ের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ১৩ মে ই-জিপির অনলাইন ব্যবস্থায় উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, যার মূল্যায়ন শেষে ২০২৬ সালের ৩ জুন মোট ৩৯ লাখ ২৭ হাজার ৬৪৫ টাকার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়; পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই সরকারের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ১৮টি প্রকল্পের বিল বাবদ ২৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫০ টাকা বৈধভাবে পরিশোধ করা হয় এবং অবশিষ্ট ১১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৫ টাকার বিল আজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।











