• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • শনিবার , ১০ অক্টোবর ২০২৬ ,১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রকৌশল সংবাদ

    কিশোরগঞ্জ-ভৈরব সড়ক: হরিলুটের রাজত্ব

      প্রতিনিধি ১০ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:০৪:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ

    ​অষ্টাদশী রূপসী বধূর লাবণ্য কিংবা রাজকীয় আভিজাত্যের কোনো প্রমোদতরী নয়- উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতির মূল জীবনরেখা কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কটি আজ পরিণত হয়েছে এক নিখাদ হরিলুটের বধ্যভূমিতে। বাহান্ন কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাধমনীর ক্ষতবিক্ষত শরীরের মোটে চার কিলোমিটার অংশ চাঙ্গা করার এই অলৌকিক মহাপরিকল্পনায় যখন ১৮ কোটি ২২ লাখ টাকার রাজকীয় বরাদ্দ সরকারি কোষাগার থেকে ছাড় হলো, ঠিক তখনই শুরু হলো পকেট ভারী করার এক রমরমা মচ্ছব আর জোড়াতালির মেরামতের তামাশা।

    ​ঢাকার নামী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সাগর ইনফো বিল্ডার্স’ কার্যাদেশের সোনার হরিণ হাতে পেয়েই যেনতেন প্রকারে কাজ সেরে পগারপার হওয়ার চতুর ফন্দি এঁটেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষের বুকফাটা আর্তনাদ আর অভিযোগের পাহাড় ভেদ করে বেরিয়ে আসছে এক লোমহর্ষক চিত্র। মহাসড়কের ধুঁকতে থাকা পুরোনো, পচা ও ক্ষয়ে যাওয়া আস্তর কিংবা পুরনো ঢালাই একটুও না তুলে, তার ওপরই জাদুমন্ত্রের মতো চুনকাম আর তড়িঘড়ি করে বসানো হচ্ছে কাঁচা ঢালাইয়ের প্রলেপ! এই হরিলুটের কারখানায় নির্দিষ্ট ও মানসম্মত ইটের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে স্থানীয় কোনো ডোবা বা ভাটার অতি নিম্নমানের ভঙ্গুর ইট, বালি আর খোয়ার ভেজাল পসরা।

    ​উন্নয়নের মোড়কে মোড়ানো এই অপরাধ সাম্রাজ্যের নেপথ্য নায়ক হিসেবে দৃশ্যপটে হাজির হয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের একশ্রেণির অন্ধ ও বধির কর্তাব্যক্তি। তাদের পকেট ভারী হওয়ার সুবাদেই তদারকির চেয়ারগুলো বছরের পর বছর শূন্য পড়ে আছে এবং ঠিকাদারও পেয়েছে লাগামহীন লুটের অবাধ লাইসেন্স।
    ​এমন লাগাতার দুর্নীতির খড়্গ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে চারদিকে যখন প্রতিবাদের আগুন দাউদাউ করে জ্বলে উঠল, তখন আত্মগোপনের সুকৌশলী খেলায় মেতে উঠলেন অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোপালচন্দ্র সরকার। তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ইথারে মিলল না সামান্যতম সাড়া বা সদুত্তর।

    ​অন্যদিকে, দায়সারা আমলাতান্ত্রিক গোলকধাঁধায় কোণঠাসা সওজ কর্তৃপক্ষ প্রথমে বুক ফুলিয়ে সাফাই গাইতে শুরু করল যে, তাদের কড়া নজরদারিতেই নাকি সামগ্রীর মান যাচাই করা হচ্ছে। কিন্তু জনগণের ইস্পাতকঠিন জনরোষ ও ক্ষোভের দাবানল যখন তাদের গদিতে গিয়ে ঠেকল, তখন গিয়ে টনক নড়ে কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সালের। বাধ্য হয়েই অনিয়মের তিক্ত সত্যতাকে আংশিক মেনে নিয়ে, প্রাথমিক পদক্ষেপের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে সাময়িকভাবে থমকে দেওয়া হয়েছে এই লঙ্কাকাণ্ডের সংস্কারকাজ।