• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • শনিবার , ২১ জুন ২০২৫ ,২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রকৌশল সংবাদ

    ঝালকাঠি গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী’ আমান উল্লাহর হরিলুট | পর্ব- ০১

      প্রতিনিধি ২১ জুন ২০২৫ , ৯:৫৫:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ

    ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমান উল্লাহ সরকার যেন একাই একটি ‘দুর্নীতির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান’। ঢাকার মহাখালী এলাকার জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালসহ স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ, মেরামত, সৌন্দর্যবর্ধন এবং আধুনিকায়নের কাজে বরাদ্দ পাওয়া কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ তার ব্যক্তিগত খেয়াল-খুশি মতো লোপাট হচ্ছে নির্লজ্জভাবে।

    স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেট থেকে প্রায় ১০ কোটি ৮১ লক্ষ টাকার বেশি অর্থ বরাদ্দ পায় গণপূর্ত বিভাগ। অথচ এ টাকা ব্যবহার হয়েছে কীভাবে, কারা পেয়েছে কাজের বরাদ্দ, বাস্তবে কী পরিমাণ কাজ হয়েছে—এসব প্রশ্নের কোনো স্বচ্ছ জবাব নেই দপ্তরে। কারণ এ পুরো বরাদ্দ গিয়েছে আমান উল্লাহর হাতে গড়া ৩–৪ জন দালাল ঠিকাদারের পকেটে। বিল, চেক ও নির্মাণ—সবকিছুই চলে তার ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে। অভিযোগ আছে, অধিকাংশ চেক সরাসরি পৌঁছে যায় তার বাসভবনে, যেখানে বসেই তিনি ঠিকাদারি সিন্ডিকেট চালান, যেন দপ্তরটি তার ব্যক্তিগত ব্যবসার ঘাঁটি।

    জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’ ব্লকে চলমান এবং সম্পন্ন কাজগুলোর তালিকা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, একটি প্রকল্পের আড়ালে আরেকটি কাজ, পুরাতন কাজের নামে নতুন করে বিল, এবং সামান্য রঙ বা ফিটিংসের কাজকে বড় অঙ্কের কাজ হিসেবে দেখিয়ে মোটা অঙ্কের ভুয়া বিল উঠানো হয়েছে। হাসপাতালের টয়লেট, অক্সিজেন সরবরাহ কক্ষ, থাই অ্যালুমিনিয়ামের পার্টিশন, সিঁড়ি ঘেঁষা মসজিদের পাশের স্থাপনা, ড্যাম্প ওয়ালের আস্তর—এসব অপ্রয়োজনীয় বা পুনরাবৃত্ত কাজের আড়ালে গায়েব হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

    শুধু হাসপাতালেই সীমাবদ্ধ নয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা ইনস্টিটিউট, ছাত্রী হোস্টেল, শরীফ মোহাম্মদ হল, একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের ওয়াকওয়ে, পানির পাইপ, টাইলস বসানো, জানালায় থাই—সব কিছুতেই চলছে কাজের নামে পকেট ভরার উৎসব। বাস্তব পরিস্থিতি হলো—প্রতিটি প্রকল্পেই বাজেটের তুলনায় অস্বাভাবিক খরচ, কিন্তু মাঠে তার ছিটেফোঁটাও দৃশ্যমান নয়।

    দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে আমান উল্লাহর একক কর্তৃত্ব এবং বরাদ্দ বণ্টনের আগ্রাসী দালালি আজ গণপূর্ত বিভাগকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। নিজে প্রকৌশলী, নিজেই ঠিকাদার, আবার বরাদ্দের দাবিদারও তিনি—এমন দ্বৈত চরিত্রে একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে এতটা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন, তা ভাবিয়ে তুলেছে সংশ্লিষ্ট মহলকে। সরকারি বিধিবিধান এবং শৃঙ্খলা একদিকে, আর আমান উল্লাহর ‘ব্যক্তিগত গণপূর্ত রাজত্ব’ অন্যদিকে—এই সংঘর্ষে প্রশাসন কার্যত মূর্ছিত।

    বিভাগের অন্য ঠিকাদাররা কাজ থেকে বঞ্চিত হয়ে আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে গভীর ক্ষোভ পোষণ করছেন। অভিযোগ আছে, তিনি নিজের নামে না চালিয়ে ‘নামমাত্র’ কয়েকজন দালালের মাধ্যমে কাজ ভাগিয়ে নিয়ে থাকেন, যাতে কাজগুলো বিলাসী বিলের আকারে বিলীন করে ফেলা যায়। দীর্ঘদিন ধরে এমন ‘দুর্নীতিবান্ধব নির্মাণনীতি’ কার্যত ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করেছে ঝালকাঠি গণপূর্তে।

    চলবে…