• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • বুধবার , ২৫ জুন ২০২৫ ,১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রকৌশল সংবাদ

    সিংগাইর এলজিইডি গিলে খাচ্ছে খালেকের বারো ভূত

      নিজস্ব প্রতিনিধি ২৫ জুন ২০২৫ , ৭:০০:২১ প্রিন্ট সংস্করণ

    মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় যেন আজ একক আধিপত্যের কারখানা—যেখানে নিয়ম, শৃঙ্খলা কিংবা প্রশাসনিক কাঠামোর কোনো মূল্য নেই। আর এই অরাজকতার হর্তাকর্তা, কথিত “কার্যসহকারী” আব্দুল খালেক। পদে চতুর্থ শ্রেণির হলেও তার ক্ষমতার বেলুন ফুলেছে স্থানীয় পরিচয়ের বাতাসে—আর সেই বাতাসেই কাঁপছে পুরো দপ্তর।

    খালেক এখন আর কেবল একজন কর্মচারী নন, বরং তিনি একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক—নিজস্ব সিন্ডিকেটের প্রধান। স্থানীয় সাংবাদিক নামধারী কিছু সুবিধাভোগীকে পেছনে রেখে তিনি দপ্তরের প্রকৌশলী ও কর্মচারীদের উপর চালাচ্ছেন অপমান, অপদস্থতা ও নানাবিধ মানসিক সন্ত্রাস। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নকশাকার উপসহকারী প্রকৌশলী এবং ইলেকট্রিশিয়ানের সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে একঘরে করে রেখেছেন তাদের—এমনকি দপ্তরে প্রবেশ করলেই তাদের মুখোমুখি হয় অপমানের গা শিউরে ওঠা চিত্র।

    কার্যালয়ের ভেতরের অসংখ্য সূত্র জানায়, খালেক নিয়মিতভাবে উপজেলা প্রকৌশলীসহ সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে থাকেন। স্থানীয় পরিচিতি, আত্মীয়স্বজন ও হলুদ সাংবাদিকদের পেছনে দাঁড় করিয়ে তিনি দপ্তরের প্রতিটি শাখা নিজের ইচ্ছেমতো পরিচালনা করছেন। প্রকৃতপক্ষে, এলজিইডির এই সরকারি কার্যালয় যেন খালেকের একচ্ছত্র সাম্রাজ্যে রূপ নিয়েছে—যেখানে প্রকৌশলীরা গেছেন গুটিয়ে, আর নিয়মনীতি হয়েছে ছিন্নভিন্ন।

    খালেকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও উঠেছে যে, সে কৌশলে দপ্তরের অভ্যন্তরীণ তথ্য ও নথিপত্র মিডিয়ার কাছে সরবরাহ করে প্রকৌশল বিভাগের ভাবমূর্তি ধ্বংস করছে। লক্ষ্য একটাই—যাদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত শত্রুতা, তাদের হেয় করা এবং নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা রাখা। এই কাজের জন্যই তার গঠন করা কথিত সাংবাদিক সিন্ডিকেট নিয়মিতভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রকৌশলীদের সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় করছে।

    দপ্তরের অনেকেই বলছেন, খালেকের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারছেন না তারা—কারণ তার রয়েছে ভয়ংকর পাল্টা আক্রমণের কৌশল। কেউ একটু প্রতিবাদ করলেই তার নিয়ন্ত্রণাধীন কথিত মিডিয়া বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে, শুরু হয় মিথ্যা তথ্যভিত্তিক চরিত্র হননের উৎসব।

    প্রশ্ন উঠে—একজন কার্যসহকারী কীভাবে পুরো এলজিইডি অফিসের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়ে নেয়? তার বেপরোয়া দৌরাত্ম্য থামাতে এখনো কেন কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? নাকি সবকিছুই হচ্ছে কোনো অদৃশ্য ছত্রছায়ায়?

    একটি রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন সংস্থা যখন নিজের ভেতরের একজন কর্মচারীর অপশাসনে নিঃস্ব হয়ে পড়ে, তখন তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, তা রাষ্ট্রযন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত। এলজিইডির শীর্ষ মহল যদি এই ভয়ঙ্কর ‘ভিতরের শত্রু’ খালেককে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনে, তবে দপ্তরের সর্বনাশ কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

    এলজিইডির প্রকৌশল বিভাগে আজ প্রয়োজন এক দৃষ্টান্তমূলক শুদ্ধি অভিযান—যেখানে খালেকের মতো চতুর্থ শ্রেণির মুখোশধারী ‘প্রভুদের’ অবসান ঘটবে। এই প্রহসনের ইতি হওয়া জরুরি—কারণ এখনই না থামালে, কাল হয়তো প্রকৌশলীরাও হবেন এই সিন্ডিকেটের চাকর!