নিজস্ব প্রতিনিধি ২৩ আগস্ট ২০২৬ , ১:২৩:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ
পাহাড়াদার যখন নিজেই উদরের গহ্বরে পুরে নেয় সংরক্ষিত বাগান, তখন রক্ষকের চাদর খুলে উন্মোচিত হয় ভক্ষকের বিভৎস চেহারা। তেজগাঁওয়ের এলেনবাড়িস্থ গণপূর্ত সম্পদ বিভাগে আজ ঠিক তেমনই এক প্রাতিষ্ঠানিক হরিলুটের বেপরোয়া মহোৎসব চলছে। সরকারি সম্পদের সুষম ব্যবস্থাপনার চটকদার বুলির আড়ালে নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম গড়ে তুলেছেন আদা জল খেয়ে লুটপাটের বারো ভূতের সিন্ডিকেট। অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, টেন্ডার-কারসাজি এবং নজিরবিহীন আর্থিক হরিলুটের এই সিন্ডিকেটে তাঁর বিশ্বস্ত অনুচর হিসেবে সক্রিয় সহকারী প্রকৌশলী ও স্টাফ অফিসার শরিফুল ইসলাম এবং উপসহকারী প্রকৌশলী সুশান্ত দত্ত।
এমনকি, রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার কবির পবিত্র উমরাহ পালনে সৌদী আরবে অবস্থান করায়, সেই রক্ষণাবেক্ষণ শাখারও অতিরিক্ত দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়েছেন এই শফিকুল। ফলে সম্পদের সাথে রক্ষণাবেক্ষণের দ্বৈত প্রকৌশলীক ক্ষমতার লাগাম এখন একক হাতে কেন্দ্রীভূত, আর দুর্নীতিও পেয়েছে অপ্রতিরোধ্য গতি।
কাগজে-কলমে দরপত্রের দরজা উন্মুক্ত রাখা থাকলেও, বাস্তবে প্রাতিষ্ঠানিক গোলকধাঁধায় প্রতিপক্ষকে ছিটকে ফেলার এক সূক্ষ্ম চক্রান্ত দৃশ্যমান। নির্দিষ্ট ‘পছন্দের পক্ষকে’ অনুগৃহীত করতে প্রাক্কলন প্রস্তুতকরণ থেকে শর্ত নির্ধারণের জটিল ধাঁধায় বন্দি করা হচ্ছে পুরো প্রক্রিয়া। এই সিন্ডিকেটের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ ও তার স্বত্বাধিকারী জামাল হোসেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তেজগাঁওয়ের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ঘনিষ্ঠতার দাপুটে এই ব্যবসায়ী, পটপরিবর্তনের পরও খোলস বদলে নতুন রাজনৈতিক আবরণে শফিকুল-শরিফুল সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই নিজের একক আধিপত্য বজায় রেখেছেন।
২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি বাসভবনের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রায় ৮ কোটি টাকার বরাদ্দ মূলত ভুয়া মাপবই ও কাগজী নথির অন্তরালে গায়েব করা হয়েছে। আংশিক কিংবা নিম্নমানের কাজের বিপরীতে কোটি কোটি টাকার বিল ছাড়ের এই প্রপঞ্চে কায়সার কবিরের অনুপস্থিতিতে শফিকুলের একচ্ছত্র প্রকৌশলীক অপব্যবহার চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। গত ৪ মে’র সুইমিং পুল মেরামত এবং এলেনবাড়ির ১ ও ২ নম্বর ভবনের প্রায় ৬০ লাখ টাকার ভুয়া সংস্কার বিল তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। যেখানে বসবাসকারী সরকারি কর্মকর্তারা সংস্কারের কোনো চিহ্নই দেখেননি, সেখানে অলৌকিকভাবে বিল খালাস হয়ে ঢুকেছে প্রকৌশলী ড. শফিকুল ইসলামের বারো ভূতের সিন্ডিকেটের পকেটে। এমনকি ১২ মে ২০২৬-এর আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে ২৫ জন নিবন্ধিত ঠিকাদারকে কৃত্রিম শর্তের বেড়াজালে ছিটকে দিয়ে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে।
একসময় আওয়ামী পরিচয়ের সুবিধাবাদী রাজনৈতিক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধানমন্ডিতে কোটি টাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বিপুল অর্থবিত্তের পাহাড় গড়ার অভিযোগ উঠেছে। পাবনার বাসিন্দা হওয়ায় সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর আত্মীয় পরিচয়ে সুবিধাবাদ জিন্দাবাদ এই প্রকৌশলী এখন বিএনপির প্রভাবশালী নেতার নাম ভাঙিয়েও দপ্তরজুড়ে আতঙ্কের রাজত্ব চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোঃ শফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর এলেনবাড়ি ও অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় কিন্তু অজ্ঞাত কারণেই তাকে পাওয়া যায় নি। এমনকি তাঁর সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।





