• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • বৃহস্পতিবার , ২৭ আগস্ট ২০২৬ ,২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রকৌশল সংবাদ

    নরসিংদী সওজের ঘুস-ঘোটালা: মাদকের আসর আর আক্রোশের উচ্ছেদ

      নিজস্ব প্রতিনিধি ২৭ আগস্ট ২০২৬ , ৬:৫৫:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ

    প্রকৌশলীক ক্ষমতার চরম দাপট, টেবিলের তল দিয়ে টাকার কেরামতি আর আভিজাত্যের আড়ালে অনৈতিকতার অশুভ মহোৎসবে এখন একাকার নরসিংদী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। নরসিংদী সড়ক বিভাগকে যেন নিজেদের ব্যক্তিগত আয়ের কারখানা বানিয়ে ছেড়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রেজা-ই-রাব্বি, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল খান এবং সার্ভেয়ার মাসুদ পারভেজ। ঘুষের মদে মত্ত হয়ে অবৈধ বহুতল ভবনকে সুরক্ষার চাদরে ঢেকে দেওয়া আর উৎকোচ না পেয়ে নিরীহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পেটে লাথি মেরে এক স্কেভেটরেই স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছে ক্ষুব্ধ জনতা।

    গতকাল ২৬ আগস্ট দুপুরে মাধবদীর আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী বাজারে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীদের হাহাকার। ​উচ্ছেদের বুলডোজার চালনার আড়ালে সওজ প্রকৌশলীদের ঘুষ-বাণিজ্যের এই হাঁড়ির খবর এখন তুঙ্গে। ব্যবসায়ী মোন্তাসের, ইলিয়াস, দেলোয়ার ও নাসিরদের অভিযোগ, সড়কের জমি উদ্ধারের নামে মহাসড়কে যে আইওয়াশ অভিযান চলে, তা আসলে তোলা আদায়ের এক মোক্ষম অস্ত্র। মাসোহারা না পেলেই স্কেভেটর দিয়ে মেহনতি মানুষের দোকানপাট ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়, আর পকেট গরম করলেই বহাল তবিয়তে টিকে থাকে বড় বড় অবৈধ স্থাপনা।

    মনির হোসেন ও বাদল হাজীর তিন তলা ভবনসহ অসংখ্য বহুতল সুরম্য অট্টালিকা ধরে রাখতে ভবনপ্রতি ৫০ হাজার এবং দোকানঘর প্রতি ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা হপ্তা আদায়ের রেটকার্ড বসিয়েছেন এই সার্ভেয়ার মাসুদ ও প্রকৌশলী রেজা-ই-রাব্বি। নির্বাহী প্রকৌশলী রাব্বি ঘটনার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে উচ্ছেদকে ‘নিয়মিত কাজ’ বলে সাফাই গাইলেও উৎকোচ শিকারের এই মহানাটক স্পষ্ট।

    ​তবে ঘুষের এই লুটপাটকে ছাপিয়ে গেছে উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জ্বল খানের বেপরোয়া তণ্ডবলীলা ও রঙিন জীবনযাপন। “একটু-আকটু জুয়া খেললে আর মাদক সেবন করলে কী হয়, জনগণের টাকাই তো উড়াই! টাকা ফেললেই সব খালাস” এমন দাম্ভিকতার চাদরে মুড়িয়ে পল্টনের ‘এমএল টাওয়ারে’ নিয়মিত মদ, ইয়াবা আর ফেনসিডিলের আসর বসান তিনি। সওজ ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির নেতাদের সাথে আতিথেয়তার সুতা বেঁধে মাদক আর জুয়ার মোহে পুরো সংস্থাকে নিজের আঙুল হেলাচ্ছেন এই লাগামহীন প্রকৌশলী।

    পটুয়াখালীর সাধারণ এক কৃষকের সন্তান সওজে ঢুকেই আফতাবনগরে সাড়ে ৭ কাঠার বহুতল নির্মাণ, ফার্মগেটে কোটি টাকার ফ্ল্যাট আর প্রিমিও সুপারিওর বিলাসবহুল গাড়ির মালিক বনে গিয়ে এক মহা বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছেন।

    ​দুদক ও সওজের প্রধান কার্যালয়ে ২০১৩ সাল থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ভুক্তভোগীদের শত শত লিখিত অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণ জমা পড়লেও অসাধু কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকায় মুখ বন্ধ রেখে বছরের পর বছর ফুরফুরে মেজাজে ঘুরছেন উজ্জ্বল। তদন্ত ফাইল তো দূরে থাক, একটি শোকজ নোটিশ পর্যন্ত ছুঁতে পারেনি তাকে। সরকারি চেয়ারকে ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য বানিয়ে কোটি কোটি টাকার লুণ্ঠন আর মাদকের চাদরে মুড়িয়ে থাকা সওজের এই দুর্ধর্ষ রামরাজত্ব এখন গোটা দেশের সচেতন মহলকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।