নিজস্ব প্রতিনিধি ২৯ আগস্ট ২০২৬ , ১২:১১:০৩ প্রিন্ট সংস্করণ
নকশার কূটচাল, পকেট ভরার মহোৎসব আর লালফিতার গোলকধাঁধা পেরিয়ে অবশেষে রত্নাই নদীর ওপর ঝুলতে থাকা জালিয়াতির কালো মেঘ কেটে আলোর মুখ দেখছে বহুচর্চিত রত্নাই সেতু। লালমনিরহাটের কুলাঘাট সীমান্তে প্রায় ২১ কোটি টাকার রাজকোষ খালি করে গড়ে ওঠা এই মেগা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে আমলা ও ঠিকাদারের যে আক্রোশ আর চাতুর্যময় তালবাহানা চলেছে, তা যেন এক মহাভারত! দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে, কাজের আয়ু ঝুলিয়ে আর বেইলি ব্রিজের মরণফাঁদে লাখো মানুষকে চার বছর জিম্মি রেখে শেষমেশ আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৩টায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর হাত ধরেই আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হতে যাচ্ছে এই সংযোগের দুয়ার। কিন্তু উদযাপনের এই আলোর নিচে নদী শাসনের যে ভয়াবহ হরিলুট আর জালিয়াতির দাগ লেগে আছে, তা সহজে মোছার নয়।
সড়ক ও জনপথের প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা আর ঠিকাদারি চক্র ‘কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজি’ মিলে উন্নয়নের নামে যেন চতুরতার এক অভিনব ফাঁদ পেতেছিল। নদীর ভাঙন রুখতে প্রাক্কলনে ৬০০ ফুট রিটার্নিং ওয়ালের অনুমোদন থাকলেও, দেদারসে বাজেট চাটতে তা কেটে আনা হলো মাত্র ৩০০ ফুটে। এখানেই শেষ নয়; নদীর বুকে ৩২ হাজার ঘনফুট বোল্ডার ফেলার বাজেট বরাদ্দ পকেটে পুরে মাত্র ১৫ হাজার ঘনফুটের হরিলুট চালিয়ে পুরো নকশাকে বিকৃত করা হয়েছে। এমনকি সেতুর মুখে অপ্রয়োজনীয় আর বিপজ্জনক তীব্র বাঁক তৈরি করে ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনার যে বীজ বুনে দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্টতই দায়িত্বহীনতার এক কদর্য নজির। ৮৫ শতাংশ কাজের ভুয়া বুলি আওড়ে বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষকে যে ভোগান্তির সাগরে ভাসানো হয়েছিল, তার খতিয়ান তুলে ধরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল স্থানীয় আবু বকর সহ দুই জেলার লাখো ভুক্তভোগী। ২০১৮ সালে ফুলবাড়ী-ধরলা সেতু চালু হলেও এই রত্নাইয়ের গোলকধাঁধার কারণেই টানা আট বছর ধরে নাগেশ্বরী ঘুরে ৬০ কিলোমিটারের দীর্ঘ চক্কর কাটতে হয়েছে সাধারণ ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের।
তবে অনিয়মের শত পঙ্কিলতা আর আমলাতান্ত্রিক ফাঁকি পেরিয়ে সেতুর এই কপাট খুলে যাওয়া কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের প্রান্তিক মানুষের অর্থনীতিতে এক মহা আনন্দের বাতাস এনে দিয়েছে। অতিরিক্ত ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটারের পথ এক ধাক্কায় কমে আসায় রংপুর, রাজশাহী ও রাজধানী ঢাকার সাথে উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি এখন তুঙ্গে উঠবে।





