নিজস্ব প্রতিনিধি ২৩ আগস্ট ২০২৬ , ১:২৬:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ
গাজীপুর গণপূর্তে সরকারি বাজেটের কোটি কোটি টাকার রহস্যজনক গতিপথ আর প্রকৌশলীক দাপটে অধীনস্থদের কোণঠাসা করে রাখার অভিযোগ উঠেছে , যার মূল নেপথ্য কারিগর নির্বাহী প্রকৌশলী হেজবুল কবির। ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী, ২০১৭ থেকে ২০২০ পর্যন্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) এবং পরবর্তীতে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ঢাকার গণপূর্ত ডিজাইন বিভাগ-৪-এ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দীর্ঘ এক যুগ রাজধানীর প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থান করার সুবাদে তৈরি হওয়া সিন্ডিকেটকে পুঁজি করেই ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ গাজীপুরে যোগদানের পর থেকে গড়ে তুলেছেন একচ্ছত্র ‘হেজবুল-রাজ’।
পাঁচ দিনের কর্মসপ্তাহে যাকে অফিসে পাওয়া অমাবস্যার চাঁদের শামিল- যার দাপ্তরিক উপস্থিতি দুপুরের পূর্বে কদাচিৎ ঘটে, সেই দূরনিয়ন্ত্রিত কাঠামোর সমান্তরালে নিজস্ব অনুগত লোক দিয়ে সরকারি রাজকীয় জিপ গাজীপুরের সীমানা পার করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে, যেখানে গত দেড় বছর ধরে মূল জিপচালক আবুল বাশারকে বসিয়ে রেখে গাড়ির রাজকীয় ব্যবহার লগবুক ও জ্বালানি হিসাব যাচাই করলেই উন্মোচিত হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ঢাকাবাসী এই প্রকৌশলীর জন্য সার্কিট হাউস সংলগ্ন নির্ধারিত সরকারি বাসভবনটি বছরের পর বছর খালি পড়ে থাকলেও, সেই অব্যবহৃত ভূতুড়ে ভবনের ‘সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ’-এর অজুহাতে সরকারি তহবিল থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বাষ্প করে দেওয়ার মহোৎসব চলেছে, যা প্রাক্কলন ও পরিমাপ বইয়ের পাতা উল্টালেই থলে থেকে বিড়াল বেরিয়ে পড়তে বাধ্য।
পর্দার অন্তরালে ভোলা ও ঢাকার নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট সাজিয়ে সরকারি গোপন টেন্ডার ফাইল অফিসে না রেখে ব্যক্তিগত বাসভবনে পাচার করার অভিযোগ তুলেছেন দপ্তরের অফিস সহকারী আনিসুজ্জামান আনিস, যা স্থানীয় অভিজ্ঞ ঠিকাদারদের বঞ্চিত করে বহিরাগতদের পকেট ভারী করার ফন্দিফিকির।
বিশেষ করে ‘জুন ফাইনাল’-এ এপিপির প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার বাজেট থেকে ভুয়া ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট’-এর দেড় কোটি টাকারও বেশি অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া এবং অডিট কর্মকর্তাদের মুখ বন্ধ রাখতে লাখ লাখ টাকার উৎকোচ ছিটানোর যে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে সম্পূর্ণ ধসিয়ে দেয়।
অর্থের মোহের পাশাপাশি অধীনস্থদের ওপর মানসিকভাবে চরম শোষণের স্ট্রিমরোলার চালিয়ে, মা-বাবা তুলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, চাকরিচ্যুত করার প্রত্যক্ষ হুমকি কিংবা অন্যায্য বদলির ভয় দেখিয়ে এক আতঙ্কের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে, যেখানে প্রকৌশলী কামরুল আলম খানকে ওএসডি করে রাখা কিংবা উপসহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেনকে অপদস্থ করা ছিল নিয়মিত ঘটনা; এর ওপর যুক্ত হয়েছে বেসরকারি ভবনের নকশা অনুমোদনে পর্দার আড়ালের কোটি টাকার অনৈতিক লেনদেনের জোরালো অভিযোগ।











