নিজস্ব প্রতিনিধি ৩ আগস্ট ২০২৬ , ১১:০৪:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে শেকড় গেড়ে বসা আমলাতান্ত্রিক কায়েমি স্বার্থ, সমান্তরাল সিন্ডিকেট ব্যবস্থা এবং বহুলচর্চিত বদলি বাণিজ্যের দুর্ভেদ্য অচলায়তন এক প্রবল প্রশাসনিক কষাঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ-২) মো. সারোয়ার আলম। শত শত প্রকৌশলী পদায়নে প্রথাগত আমলাতান্ত্রিক চালবাজি ও তদবির প্রথাকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে শতভাগ ডিজিটাল, নিরপেক্ষ ও লটারিভিত্তিক পদায়ন কার্যকর করার মাধ্যমে তিনি গণপূর্তের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বছরের পর বছর ধরে চর্চিত স্বজনপ্রীতি, প্রশাসনিক তোষণ নীতি ও কোটি টাকার লেনদেন নির্ভর বদলি চক্রকে এক আঘাতেই ধূলিসাৎ করে দেওয়ার এই সাহসী পদক্ষেপ সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও, নিজেদের একছত্র জিম্মাদারী ও কায়েমি সাম্রাজ্য হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় বিভ্রান্তির ধোঁয়াশাজাল তৈরিতে উন্মাদ হয়ে উঠেছে কায়েমি চক্রটির একশ্রেণির বঞ্চিত স্বার্থান্বেষী প্রকৌশলী।
প্রশাসনিক আইনশাস্ত্র ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত বিধিমালার নিরিখে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, লটারিভিত্তিক এই আমূল সংস্কারের বিরুদ্ধে তোলা তথাকথিত নীতিমালার অজুহাত কেবল আইনি দৃষ্টিকোণ থেকেই ভিত্তিহীন নয়, বরং তা সুস্পষ্টভাবে রাষ্ট্রদ্রোহী প্রশাসনিক আচরণের শামিল। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ২৬ ধারা: রাষ্ট্রকে জনস্বার্থে যেকোনো সরকারি কর্মচারীকে যেকোনো ভূখণ্ডে বা কার্যালয়ে পদায়নের একচ্ছত্র ও সার্বভৌম এখতিয়ার প্রদান করেছে। তদুপরি, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ৩০ ধারা লঙ্ঘন করে বদলি বা পদায়নের নামে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ তদবির, গোষ্ঠীগত চাপ সৃষ্টি কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
দীর্ঘদিন ধরে ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণির কার্যালয়ের মারপ্যাঁচ, অভিজ্ঞতার অজুহাত ও প্রবিধানের অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে একটি জ্যেষ্ঠ স্বার্থান্বেষী মহল ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক লাভজনক দপ্তরে বছরের পর বছর ধরে নিজেদের স্থায়ী আসন গেড়ে বসেছিল। মেধা ও জ্যেষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও নিভৃতচারী ও সৎ প্রকৌশলীরা প্রতিনিয়ত পদায়নের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিলেন। মো. সারোয়ার আলমের এই বৈজ্ঞানিক ও নিরপেক্ষ ‘লটারি মডেল’ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অনৈতিক প্রভাব বিস্তার, স্বেচ্ছাচারিতা বা কোটি টাকার অর্থ লেনদেনের পথকে চিরতরে রুদ্ধ করে দিয়েছে। ফলে, যে নীতিমালা এতদিন ছিল কেবল স্বজনপ্রীতির ঢাল, লটারি ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির জারি করা সেই আদেশের মূল চেতনা ও গেজেটের প্রকৃত আত্মা শতভাগ বাস্তবায়িত ও সুরক্ষিত হয়েছে।
প্রশাসনিক জটিলতার গোলকধাঁধায় গণপূর্ত যখন দিকভ্রান্ত, ঠিক তখনই মো. সারোয়ার আলম তাঁর প্রজ্ঞা, সততা ও প্রশাসনিক তেজস্বিতার মাধ্যমে এক অপরাজেয় প্রাচীর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। বাহ্যিক কোনো তাত্ত্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা বহিরাগত আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংস্থার অভ্যন্তরীণ রন্ধ্রে রন্ধ্রে গতিশীলতা আনয়ন এবং নিচ্ছিদ্র চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তিনি যে লৌহকঠিন দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছেন, তা আধুনিক সরকারি ব্যবস্থাপনার এক অনন্য পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ।
এবিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক অভূতপূর্ব বদলি ও পদায়ন প্রসঙ্গে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ-২) মো. সারোয়ার আলম বলেন: “সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শতভাগ নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরে বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে যে অনিয়ম, তদবির এবং অসন্তোষের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা ভেঙে ফেলতেই আমরা সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও লটারিভিত্তিক পদায়ন পদ্ধতি গ্রহণ করেছি। তিনি আরও বলেন, গণপূর্তের ইতিহাসে এটি একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ, যা মাঠপর্যায়ে কাজের গতিশীলতা ও সততার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে। রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”











