প্রতিনিধি ১৯ মে ২০২৫ , ৪:১০:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ
এম এইচ মুন্না :
হাওরাঞ্চলের উন্নয়নের নামে নির্মাণাধীন উড়াল সড়ক প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার শিমুল বাগান থেকে রাজারগাঁও পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে রাষ্ট্রীয় নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জোরপূর্বক ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমির মাটি কেটে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হামিম ইন্টারন্যাশনাল এন্ড মো. রাশেদুজ্জামান পিটার। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রচ্ছায়ায় এই লুটপাট চালানো হয়েছে—যা প্রকল্প বাস্তবায়নে আইনের চরম অবমাননা।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রায় ৮৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মাহারাম নদীর উপর সেতু এবং রাজারগাঁও পর্যন্ত ২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শুরু হয় এবং তা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৬ সালের মে মাসে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী, সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় মাটি ঠিকাদারদের নিজস্ব বা অনুমোদিত সোর্স থেকে সংগ্রহ করার বিধান রয়েছে—তথাপি সড়কের দুই পাশে ভেকু চালিয়ে ১৫-২৫ ফুট চওড়া অংশজুড়ে কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নেয়া হয়েছে; যার অধিকাংশই গরিব কৃষকের জীবন-জমির শেষ সম্বল।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, মাহারাম গ্রামের অন্তত ৩০ জন কৃষকের জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নেয়া হয়েছে। এতে তাদের বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে এবং কৃষিকাজের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিপূরণ তো দূরের কথা, স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে তারা মুখ খুলতেও পারছেন না।
মাহারাম গ্রামের কৃষক মো. নাছির উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার মতো গরিব মানুষের জমি কেটে নিয়ে রাস্তা বানানো হচ্ছে, অথচ কোনো ক্ষতিপূরণ নাই। উন্নয়ন যদি গরিবের বুকের উপর দিয়ে হয়, তবে এই উন্নয়ন আমাদের জন্য অভিশাপ।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য কফিল উদ্দিন জানান, মাটি কাটার সময় বাঁধা দিতে গেলে মামলার ভয় দেখানো হয়। আর এ অনিয়মে জড়িত আছেন স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নোয়াজ আলী, যিনি ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে জোর করে জমির মাটি কাটার অনুমতি দেন এবং বিনিময়ে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. সজিব হোসেন বলেন, “নোয়াজ আলী মাটি সংগ্রহে সহযোগিতা করেছেন। তবে আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, সেটা ঠিকাদার জানেন।” যদিও এ বক্তব্যেই ইঙ্গিত স্পষ্ট—আসল চিত্র ধোঁয়াশার অন্তরালে রেখে দায় এড়ানোর অপচেষ্টা চলছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা নোয়াজ আলী দাবি করেন, “আমি শুধু সহযোগিতা করেছি। কেউ যদি মিথ্যা অভিযোগ করে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বলছেন, উন্নয়নের নামে যেভাবে জমির উপর হানা দেয়া হয়েছে, তা প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের নগ্ন উদাহরণ। জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।











