• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • শুক্রবার , ৩০ মে ২০২৫ ,৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রকৌশল সংবাদ

    মিলেমিশে মহাখালী গিলে খাচ্ছে রাজউক কর্মকর্তা আজাদ | পর্ব-০১

      এম এইচ মুন্না ৩০ মে ২০২৫ , ৫:৩৭:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ

    ঢাকার স্থাপত্য ও নির্মাণ খাতে যখন একদিকে দুর্নীতি আর অবৈধ কার্যক্রম বেড়ে চলেছে, তখন রাজউকেরই এক প্রভাবশালী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ তার অন্ধকারজগতের চক্রে এমনভাবে জড়িত, যা একে ‘স্বাভাবিক’ বলে অভিহিত করা অসম্ভব। রাজউকের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, তা একে তলানিতে ঠেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ২০১৮ সালে রাজউক-এর নিয়োগ পরীক্ষার দিন তার কারসাজি এতটাই গভীর যে, একে ‘চাকরির নিয়োগ নয়, এক গভীর ষড়যন্ত্রের ফল’ বললেও অত্যুক্তি হবে না।

    যে নিয়োগ পরীক্ষায় পেশাদারিত্ব, যোগ্যতা এবং সততা ছিল প্রথম শর্ত, সেখানে একজন কর্মকর্তার লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই শুধুমাত্র ভাইভা দিয়ে চাকরি পাওয়া—এটা কি কোনো সহজ ব্যাখ্যার বিষয়? এই দুর্নীতির মূলে যে এক নোংরা লেনদেনের চক্র সক্রিয়, তা আর পরিস্কার না করা গেলেও, তার পরবর্তী কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে যে তাঁকে সততার প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না। অভিযোগ উঠেছে, তিনি পূর্ব বাড্ডা, জামতলা, দক্ষিণ আনন্দনগর, মিরপুরসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনবিহীন এবং অবৈধ ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে অর্থ গ্রহণ করেছেন।

    এই ঘটনাগুলো এমন গভীরে চলে গিয়েছে, যেখানে তদন্তের জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা কিংবা কিছু বিচারিক দৃষ্টি দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেয়া তো দূরের কথা, বরং তাঁর বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক এসব কার্যক্রম চলতে থাকার সাথে সাথে রাজউক-এর কর্মকর্তাদের মুখে মিথ্যা সান্ত্বনা আর চুপ থাকার কালচার তৈরি হয়েছে। নগদ টাকার লেনদেনের সিসিটিভি ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও, তাঁর বিরুদ্ধে একটি সুষ্ঠু তদন্তও তো করা হয়নি। কেন? প্রশাসন কেন বরাবর নীরব? এর পেছনে কী ধরনের দুর্নীতির সখ্যতা রয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।

    এছাড়া, একের পর এক অভিযোগ, যার মধ্যে সেসময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হলেও, ভবন মালিকদের মিটার খুলে নেওয়া এবং ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা সামান্যতম কোনো শাস্তি না পেয়ে কীভাবে এড়িয়ে গেলো? তো সেই সময় তার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কেন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা সুস্পষ্ট ভাবে প্রতীয়মান হয়ে উঠছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে গিয়ে জনগণের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা এবং চুপ থাকার অপসংস্কৃতি কোনো মন্ত্রণালয়ের অগোচরে চলে গেছে।

    যতই তাকে প্রশ্ন করা হোক, অতিরিক্ত কল ও মেসেজ পাঠানো সত্ত্বেও ফোন কেটে দেয়ার ঘটনায় এটাই স্পষ্ট, যে তার উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনিক স্তরে কোনো ধরনের তদন্ত বা জবাবদিহি এড়ানো। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, তিনি আগেই জানতেন যে এই বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে, প্রশাসনিক সিস্টেমে তার জন্য একাধিক পাল্টা পদক্ষেপ তৈরি ছিল।

    সব মিলিয়ে, ঢাকার শহরের অবৈধ ভবন নির্মাণের এই চিত্রটি যদি বন্ধ না করা হয়, তবে রাজউক-এর মর্যাদার চেয়েও ভয়াবহ ক্ষতি হয়ে যাবে। এই ধরনের কালো টাকা, ঘুষ, এবং ক্ষমতার অপব্যবহার চলতে থাকলে শুধু রাজউকের সুনামই ক্ষুণ্ণ হবে না, পুরো রাজধানীকে এক অন্ধকার দিকেই ঠেলে দেয়া হবে, যেখান থেকে ফিরতে আর কোনো সময়ের সুযোগ থাকবে না।

     

    চলবে….