• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • সোমবার , ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ,১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রকৌশল সংবাদ

    মোল্লাহাটে এলজিইডি’র গ্রামীণ সড়ক সংস্কার কাজে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ

      প্রতিনিধি ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ , ৮:৫৯:২১ প্রিন্ট সংস্করণ

    স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে মোল্লাহাট উপজেলার গাওলা ইউনিয়নের মহাসড়ক থেকে আগা কেন্দুয়া ১ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। নির্মাণ কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের নাম্বারবিহীন ইট ও মাটিযুক্ত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রোকেয়া ট্রেডার্সের অনুকূলে কাজটি করছে সাব-কন্ট্রাক্টর মিনু চৌধুরী। রাস্তার কাজ তদারকিতে মোল্লাহাট উপজেলার এলজিইডি’র কর্মকর্তাদের গাফিলতি আছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এলজিইডি’র ২০২২-২৩ অর্থ বছরের এই প্রকল্পে কার্পেটিং কাজের অনুকূলে ৪৪ লক্ষ ৯ হাজার ২শ’ ২৩ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
    স্থানীয়দের অভিযোগ, মোল্লাহাট উপজেলায় উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকার বছর বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বিভিন্ন রাস্তায় নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলে কিছু দিনের মধ্যেই তা ভেঙে জলে যাচ্ছে সরকারি টাকা। কয়েক মাস যেতে না যেতেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে এসব সড়ক। ফলে সরকারি বরাদ্দে অবমূল্যায়নের ফলে দুর্ভোগের শিকার হতে হয় এলাকাবাসীদের।
    এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক থেকে আগা কেন্দুয়া পর্যন্ত ১ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার কাজেও একই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ প্রকল্পের নিম্নমানের ইট খোয়াসহ নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করছে। এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অনিয়মের অভিযোগে কাজ বন্ধ রাখার জন্য বললেও এখনো উক্ত কাজ সমাপ্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
    সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি করা হচ্ছে। নিম্নমানের ইট ও ইটের ভাঙা অংশ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। পুরানো সড়কের পিচ না উঠিয়ে তার উপরই নতুন কাজ করার ব্যবস্থা করছে। এতে অত্যন্ত নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। রাস্তার কাজে স্থানীয় সরকার প্রকৗশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কাউকে এসে তদারকি করতে দেখা যায়নি। এমনকি রাস্তার কাজে ব্যবহৃত ইট হাত দিয়ে চাপ দিলে তা ভেঙে যাচ্ছে। এলাকাবাসী এটাকে ইট নয়, পোড়া মাটি বলছে। স্থানীয় চন্দন মধু এই প্রতিনিধিকে জানান রাস্তার কাজে ব্যবহৃত ইট হাত দিয়ে ভেঙে রোজ দাঁত মাজেন তিনি।

    তবে অভিযুক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রোকেয় ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী কাজের অনিয়মের বিষয় অস্বীকার করে অভিযোগের তোয়াক্কা না করে বলেন, আমি কাজটি বিক্রি করে দিয়েছি। কাজের মান এলজিইডি তদারকি করে বিল দিবে।

    এলজিইডি’র মোল­াহাট উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শওকত হোসেন বলেন, এই কাজে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর অধীনে টেন্ডারের চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে, ৪৪ লাখ ৯ হাজার ২ শ’ ২৩ টাকা। চুক্তি মোতাবেক কাজ হচ্ছে না স্বীকার করে তিনি বলেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ বাতিলের জন্য ২ বার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লেখা হয়েছে। এরপরও ঠিকাদার কাজ চলমান রেখেছে, তবে চুক্তি মোতাবেক কাজ না হলে তারা কোন বিল পাবে না বলেও জানান এই প্রকৌশলী। অভিযোগের বিষয়ে সাব কন্ট্রাক্টর মিনু চৌধুরী বলেন এই কাজে আমার কোন লাভ হচ্ছে না বরং ১-২ লাখ টাকা লস হবে।