• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • শুক্রবার , ১ আগস্ট ২০২৫ ,১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রকৌশল সংবাদ

    এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ | পর্ব- ০১

      নিজস্ব প্রতিনিধি ১ আগস্ট ২০২৫ , ৬:৪০:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ

    স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হরিনাবাড়ী বাজার পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে চরম অনিয়ম, ভয়াবহ দুর্নীতি ও প্রকৌশলগত দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পটিতে দুর্নীতির সরাসরি অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

    প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ২০২২ সালে ওয়াটার বাইন্ডিংয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর দীর্ঘ সময় কোনো কার্যক্রম না চালিয়ে প্রকল্পটিকে অবহেলিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। হঠাৎ করে ২০২৫ সালের মে মাসে, প্রকৌশলগত কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই পুরনো ডইগের উপরেই সরাসরি বালু ছিটিয়ে তড়িঘড়ি করে কার্পেটিং শুরু করা হয়। এতে কাজের গুণগতমান ও প্রকৌশল পদ্ধতি নিয়ে ভয়াবহ প্রশ্ন উঠেছে।

    অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মা এন্টারপ্রাইজ’-এর সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সখ্যতার সুযোগে কাজ শেষ না করেই চূড়ান্ত বিল অনুমোদন করে পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়—যা পূর্বপরিকল্পিত লুটপাটের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয় সূত্র বলছে, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকৌশলীদের গোপন যোগসাজশ ও তদবিরের মাধ্যমে পুরো প্রকল্পটি নিম্নমানের উপকরণে চালিয়ে শেষ করে বিল ছাড় করানো হয়।

    বিশেষ করে সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী হেলালুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। তারা প্রকল্প ফাইল দেখাতে অস্বীকার করেন এবং কোনো ল্যাবরেটরি টেস্ট ছাড়াই নিম্নমানের বিটুমিন, বালু ও কার্পেটিং সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে বিল অনুমোদন করেন।

    তৎকালীন রংপুর বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুসাসহ নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরীকেও মৌখিকভাবে বিষয়টি অবহিত করা হলেও, প্রকল্প যাচাই বা বিল স্থগিতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উল্টো, নিরীক্ষাহীন অবস্থায় বিল ছাড় করার মাধ্যমে প্রকল্পটি দায়মুক্ত করে দেন—যা তার দায়িত্ব ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে ভয়াবহ সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

    এদিকে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী প্রতিবেদককে হোয়াটসঅ্যাপে প্রেরিত এক বার্তায় দাবি করেন, “অভিযোগ সঠিক নয়। আমার দৃষ্টিগোচর হওয়ার আগেই কাজ শেষ হয়ে যায়। উক্ত কার্পেটিং কাজের মান ভালো। অভিযোগ জানার পর সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী পরিদর্শনে গিয়েছেন। আমি নতুন, আর উপজেলা প্রকৌশলী আমার চেয়ে পুরাতন। তাই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তো দূরের কথা, তাকে ভালো করে চিনিও না। যদি কোনো ত্রুটি থাকে এবং তা দৃষ্টিগোচর হয়, অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

     

    চলবে….