নিজস্ব প্রতিনিধি ২৩ আগস্ট ২০২৬ , ১:৩৮:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ
গণপূর্তের চাকা ঘোরে জনগণের ঘাঘরা ঘামে, অথচ সেই চাকার পিচঢালা পথেই চলে টাকার ছড়াছড়ি আর রাজকীয় জোচ্চুরি! ইট-পাথরের দেয়াল গাঁথতে গিয়ে যারা নিজেদের পকেট ভারী করার মচ্ছবে মেতে উঠেছেন তাদের রূপকথার খোলস ছাড়াতে নামলে উঠে আসে গা গুলিয়ে ওঠা সব তেলেসমতি কাণ্ড। দুর্নীতির এই গোলকধাঁধায় সরকারের হুঁশিয়ারি যেখানে তুড়ি মেরে উবে যায়, সেখানেই তৈরি হয় এক-একটি দুর্ভেদ্য বিষবৃক্ষ।
প্রকৌশল অন্ধমহলে বসে রাষ্ট্রীয় ধন-সম্পদ লুটেপুটে খাওয়ার সেই কুৎসিত মহোৎসবের কেন্দ্রবিন্দু এখন খুলনা গণপূর্ত জোন, আর সেই জাদুর কাঠির প্রধান কারিগর ১৮তম ব্যাচের তথাকথিত ‘সুদর্শন’ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান।
বাইরে ভদ্রতার মোড়ক, কিন্তু ভেতরে নিখাদ দুর্নীতির বিষাক্ত ছোবল, সাইফুর রহমানের আমলনামা খুললেই বেরিয়ে আসে প্রকৌশলীক দাপট আর স্বজনপ্রীতি দিয়ে বুনে তোলা এক অদৃশ্য কান্ডকারখানা।
চাটুকারিতার সিঁড়ি বেয়ে আজিমপুর থেকে ২০২৬-এর ফাল্গুনে খুলনার তখতে বসেই তিনি চাঙ্গা করে তুলেছেন দরপত্রের পুরোনো হাটে কমিশন বাণিজ্যের মস্ত কারবার। জিকে শামীম কিংবা গোল্ডেন মনিরের মতো কুখ্যাত মাফিয়াদের সাথে পেছনের দরজায় পিরিতি জমানো এই প্রকৌশলীর ঝুলিতে আছে ২৪-এর রক্তাক্ত ছাত্র আন্দোলনে রক্তের হোলি খেলায় অর্থ জুগিয়ে পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ার কালো ইতিহাসও।
আজিমপুরে তৈরি করা তাঁর সেই কুখ্যাত ‘সিন্ডিকেট প্রথা’ আর মাসোহারা ছাড়া ফাইল না ছোঁয়ার বদভ্যাস খুলনাতেও ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রামক ব্যাধির মতো; যেখানে উপঢৌকনের মিষ্টি না পৌঁছালে ফাইলের লাল ফিতা আর খোলে না। লুটপাটের এই অন্তহীন মহাযজ্ঞে উপচে পড়েছে তাঁর ভোগের পেয়ালা! ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মোহাম্মদপুর আর মিরপুরে দাঁড়িয়ে থাকা অট্টালিকা, পূর্বাচলের সোনার হরিণ সমতুল্য প্লট কিংবা ঘাটাইলের রাজকীয় ডুপ্লেক্স প্রাসাদ- সবই এই মেকি প্রকৌশলীর মেকি প্রকৌশলীক ফল।
সালাউদ্দিন সেনানিবাস মোড়ে পেট্রোল পাম্প ভেঙে সোনারতরী পার্ক বানানো কিংবা কাঠবাদাম রেস্টুরেন্টের খোলসে কোটি কোটি টাকার জমি গিলে খাওয়া সাইফুরের নজর দেশ ছাড়িয়ে এখন সুদূর আমেরিকাতেও। স্বজনদের নামে ভাইয়ের মার্কেটে ছায়া ফেলা কিংবা মার্কিন মুলুকে মেয়ের জন্য বিলাসী আবাসন গড়ে তোলার পেছনে যে শতকোটি টাকার রক্তচোষা অর্থ, তার সুতা ঝুলছে এই খুলনা গণপূর্তের টেবিল থেকেই।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বারবার যোগাযোগ করা হলেও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান ফোন রিসিভ না করে কৌশলে এড়িয়ে গেছেন, কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ যেনো শকুনের চোখে গণপূর্তের ভবিষ্যৎ….
চলবে…..











