• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • শনিবার , ২৫ অক্টোবর ২০২৫ ,১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রকৌশল সংবাদ

    দিনাজপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আওয়ামিলীগের হুইপ স্বপনের ছায়ায় দুর্নীতির সাম্রাজ্য | পর্ব-০১

      নিজস্ব প্রতিনিধি ২৫ অক্টোবর ২০২৫ , ৮:৪৫:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ

    দিনাজপুর সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর এখন দুর্নীতির এক জীবন্ত ল্যাবরেটরি। যেখানে নির্বাহী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে এমন এক সিন্ডিকেট, যারা রাষ্ট্রের অর্থকে ব্যক্তিগত সম্পদে রূপান্তর করার নেশায় উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। চার বছর বগুড়ায় দায়িত্ব পালন করে কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প ‘আত্মীয় প্রতিষ্ঠানে’ পাইয়ে দেওয়ার পর এই কর্মকর্তা দিনাজপুরে এসেও সেই একই কৌশল, একই খেলা, একই চরিত্র নিয়ে গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির নতুন রাজত্ব।

    তথ্য বলছে, বগুড়ায় দায়িত্বকালে নির্বাহী প্রকৌশলী প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ একচেটিয়াভাবে দিয়েছিলেন “আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড” নামের প্রতিষ্ঠানে, যার মালিক মনির নামধারী ব্যক্তি আসলে তার ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক অংশীদার। বদলির পর দিনাজপুরে এসেও পরিস্থিতি বদলায়নি। এখন প্রায় ১০০ শতাংশ কাজই যাচ্ছে একই প্রতিষ্ঠানের হাতে, যেন সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়া নয়, বরং নির্বাহী প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কারখানা!
    পূর্ববর্তী নির্বাহী প্রকৌশলীর আমলে যেখানে একই প্রতিষ্ঠানের কাজের হার ছিল মোটামুটি ৬০ শতাংশ, বর্তমান কর্মকর্তার আমলে সেটি রূপ নিয়েছে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।

    টেন্ডার আহ্বান, যোগ্যতা যাচাই, অনুমোদন সবকিছুই এখন পূর্বনির্ধারিত ‘কমিশন রুলে’ পরিচালিত হচ্ছে। যেসব প্রকৌশলী ও ঠিকাদার এই সিন্ডিকেটের বাইরে, তারা বাস্তবে প্রশাসনিকভাবে ব্ল্যাকলিস্টেড।

    এই ভয়ংকর অর্থনৈতিক অনিয়মের মূল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উঠে এসেছে আওয়ামী লীগ ঘরানার জয়পুরহাট–২ আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের নাম। প্রশাসনিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, নির্বাহী প্রকৌশলীর পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে হুইপ স্বপনের সঙ্গে প্রকৌশলীর স্ত্রী বর্তমানে বগুড়া সেটেলমেন্ট অফিসে এডিসি পদে কর্মরত, আর তিনি হলেন ওই এমপির খালাতো বোন। এই আত্মীয়তার বলয়ই গড়ে তুলেছে দুর্নীতির ‘সেফ জোন’।

    ফলাফল: দিনাজপুর সওজে এখন প্রতিটি কাজ, প্রতিটি প্রকল্প, প্রতিটি বিল পাস হয়ে যাচ্ছে সাবেক আওয়ামী লীগের এমপি-প্রকৌশলী আঁতাতের মাধ্যমে। টেন্ডার ডকুমেন্টে যেসব নাম দেখা যায়, তার পেছনে থাকে একই চক্রের হাতে লেখা ভাগের হিসাব। একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, প্রতি প্রকল্পেই কমিশন ভাগ হয় তিন স্তরে প্রথম ভাগ এমপির রাজনৈতিক তহবিলের নামে, দ্বিতীয় ভাগ নির্বাহী প্রকৌশলীর নিজের জন্য, আর বাকি অংশ ঠিকাদারের কমিশন বাবদ।

    সরকারি টেন্ডার আইন, সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের নীতিমালা, কিংবা আর্থিক প্রজ্ঞাপন কোনোটিই এখানে কার্যকর নয়। দিনাজপুর সওজ এখন এমন এক জায়গা, যেখানে ফাইল সই হয় কমিশনের অঙ্ক দেখে, কাজের মান বা নকশা দেখে নয়।

    প্রকল্পে প্রতিযোগিতা অনুপস্থিত, প্রযুক্তিগত যাচাই নেই, মাঠে কাজের মান নিয়ন্ত্রণ তো কল্পনাও করা যায় না। অর্থাৎ টেন্ডার প্রক্রিয়া এখানে কেবল “সরকারি কাগজে বৈধতা দেওয়ার একটি আড়াল” বাস্তবে এটি একচেটিয়া লুটপাটের প্রক্রিয়া। জনগণের করের টাকায় তৈরি এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এখন সেই সিন্ডিকেটের ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টে পরিণত হয়েছে।

    সূত্র বলছে, নির্বাহী প্রকৌশলীর দাপট এতটাই যে, জেলা প্রশাসন পর্যন্ত তার বিষয়ে রিপোর্ট দিতে ভয় পায়। সরকারি পর্যবেক্ষণ টিম আসার আগেই তৈরি হয় “শোভন দৃশ্য” যেটি তৈরি করে একই ঠিকাদার চক্র, শুধু দেখানোর জন্য। প্রকৃত কাজ মাঠে থাকে অনুপস্থিত।

    একাধিকবার নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। দিনাজপুর সওজ অফিসের একটি সূত্র জানায়, “স্যার জানেন, কাকে কী বলতে হয়। উনার উপরে আছেন বড় ভাই স্বৈরাচার পতিত আওয়ামী লীগের সাবেক হুইপ সাহেব।

     

    এখানেই শেষ নয়…

    চলবে.. দিনাজপুর সওজে হুইপ-প্রকৌশলী আঁতাতের দ্বিতীয় অধ্যায় পরবর্তী সংখ্যায়।