• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৬ ,১৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রকৌশল সংবাদ

    চট্টগ্রাম সওজে লুটপাটের পরাকাষ্ঠা!

      এম এইচ মুন্না ২২ অক্টোবর ২০২৬ , ৯:৩৯:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ

    সরকারি কোষাগারে নামকাওয়াস্তে মাত্র ৩০ লাখ টাকার ছিটেফোঁটা ফেলে চোখের নিমেষে হাতিয়ে নেওয়া হলো প্রায় তিন কোটি টাকার প্রকাণ্ড সম্পদ চট্টগ্রামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অধিগ্রহণকৃত জায়গার অবকাঠামো ভাঙা ও অপসারণের কাজে এ যেন এক দুর্ধর্ষ ও অনবদ্য লুটপাটের মহোৎসব! চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে আয়োজিত প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ভারের এই সুবিশাল মেগা যজ্ঞে ক্রসিং ওয়াই জংশন থেকে কালাবিবির দীঘির মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রসারণের তাগিদে যখন ফকিরনীর হাট, ফাজিলখাঁর হাট, বড়উঠান, চাতরী চৌমুহনী বাজার ও কালাবিবির দীঘির মোড় এলাকায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা ঢেলে ভূমি ও অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ চুকানো হলো, ঠিক তখনই ২০২৫ সালের ২ জুলাই সওজের দরপত্রের সমাচ্ছন্ন আহ্বানে সওজের নির্ধারিত চাহিদা মাত্র ২০ লাখ টাকার বিপরীতে ‘জারা আয়রন মার্ট’ নামের এক প্রতিষ্ঠানের আবির্ভাব ঘটে, যারা প্রথম দরপত্রেই মাত্র ৩০ লাখ টাকার ভোজবাজিতে বাগিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকার স্থাপনা ভাঙা ও অপসারণের রাজকীয় ম্যান্ডেট, যা প্রতিযোগিতামূলক দর যাচাই কিংবা পুনঃদরপত্রের প্রয়োজনীয় নিয়মকানুনের চরম লঙ্ঘন বলে জোর প্রশ্ন উঠেছে।

    জানা যায়, অধিগ্রহণ করা পাকা ও আধাপাকা স্থাপনাগুলো ভেঙে সেখান থেকে বের করে আনা বিপুল পরিমাণ লোহা, ইট ও অন্যান্য মূল্যবান নির্মাণসামগ্রীর পাইকারি বিকিকিনি; কেবল স্ক্র্যাপ লোহাই উদ্ধার করা হয়েছে ২০০ টনেরও বেশি, যার বাজারমূল্য হাঁকিয়ে বিক্রি করে পকেটে পোরা হয়েছে প্রায় তিন কোটি টাকার বিপুল অর্থ, যার কোনো যথাযথ হিসেব কিংবা সরকারি কোষাগারে জমার তথ্য মেলেনি। তবে অনিয়ম সেখানেই থেমে থাকেনি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সরাসরি অশুভ যোগসাজশে ভবন না ভেঙে কিংবা আংশিক অক্ষত রাখার বিনিময়ে ভবনমালিকদের থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এক রমরমা অনৈতিক বাণিজ্য শুরু হয়।

    অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ফাজিলখাঁর হাট এলাকায় সড়কের পূর্ব পাশে একটি ভবনের প্রায় ২০ ফুট বাই ৫০ ফুট অংশ রেখে দেওয়ার বিনিময়ে মালিকের কাছ থেকে গোপনে ১৩ লাখ টাকা খসানো হয়েছে, সড়কের পশ্চিম পাশে এক তিনতলা ভবন আস্ত ও অক্ষত রেখে দেওয়ার সুবাদে পকেটে পোরা হয়েছে ১০ লাখ টাকা এবং পার্শ্ববর্তী আরও দুটি ভবনের অংশবিশেষ অপসারণ না করে মোটা অংকের অর্থ পকেটস্থ করা হয়েছে। একইভাবে চাতরী চৌমুহনী বাজারে ওয়ান মাবিয়া, হাজেরা মার্কেট, অগ্রণী ব্যাংক ভবন, একুশে প্লাজা ও আবুল হোসেন মার্কেটের সামনে বুলডোজারের থাবা থামিয়ে রেখে মালিকদের কাছ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ৫০ লাখ টাকারও বেশি অর্থ, যার প্রতিটি লেনদেনের সুতো বাঁধা ছিল সওজের সার্ভেয়ার সুভাষীষ চাকমার হাতে, যার বিরুদ্ধে তদারকির নামে সমঝোতার মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকার এই অবৈধ বাণিজ্য পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যদিও পুরো ঘটনা ধামাচাপা দিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জারা আয়রন মার্টের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলম রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হুমকি ও আক্রমণের শিকার হওয়ার দোহাই দিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকারের করছেন, অন্যদিকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা ফোন রিসিভ না করে নীরবতার চাদর মুড়ি দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।