নিজস্ব প্রতিবেদক ৪ নভেম্বর ২০২৬ , ১০:০৫:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনির সরকারি রাজপ্রাসাদে যেন রাজত্ব চালাচ্ছিল এক অদৃশ্য মাফিয়া সিন্ডিকেট! গণপূর্ত বিভাগ যে আবাসনগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করে খাতায়-কলমে মৃত বানিয়ে রেখেছিল, সেই বহুতল ভবনগুলোতেই রাতের আঁধারে চলছিল অবৈধ ভাড়ার জমজমাট বাণিজ্য, সাবলেটের রকমারি হাট এবং সরকারি সম্পত্তির প্রকাশ্য হরিলুট।
পরিত্যক্ত ঘোষিত ৫৪টি সরকারি বাসায় কোনো ধরনের বৈধ বরাদ্দপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে চেপে বসা দখলদারদের উচ্ছেদ করতে এবং এই দুর্নীতির গোমর ফাঁস করতে সোমবার (২ নভেম্বর) ঝটিকা এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের নির্দেশে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এর চৌকস টিম যখন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর ও গণপূর্ত বিভাগের দায়সারা কর্তাবাবুদের সাথে নিয়ে কলোনির অলিতে-গলিতে সরেজমিনে হানা দেয়, তখনই থলের বেড়াল একে একে বেরিয়ে আসতে শুরু করে।
নথি যাচাই আর সরেজমিনে উন্মোচিত হয় এক অবিশ্বাস্য ভূতুরে কারসাজি, একজনের নামে বরাদ্দ করা সরকারি বাসা অন্য ভুয়া মানুষের কাছে চড়া দামে সাবলেট দিয়ে পকেট ভারী করা হয়েছে নিয়মিত। আরও চমকপ্রদ তথ্য হলো, গণপূর্তের খাতায় যে ভবনগুলো ‘পরিত্যক্ত ও বিপজ্জনক’ হিসেবে সিল মারা, সরকারি আবাসন পরিদপ্তর পরম মমতায় সেই ভূতুড়ে ভবনগুলোতেই নতুন করে বাসা বরাদ্দের জাদুকরি নথি তৈরি করেছে! পরিত্যক্ত ঘোষিত খাতায় মৃত এসব ঘরে গ্যাস আর বিদ্যুতের আলোও জ্বলছিল বহাল তবিয়তে। দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম কেবল অবৈধ বাসাই হাতেনাতে ধরে ফেলেনি, বরং সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার নামে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চোখ ঠাঁরা করা দায়িত্ব অবহেলা আর দীর্ঘদিনের অশুভ আঁতাতের আঁশটে গন্ধও ফাঁস করে দিয়েছে।
দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, অভিযানে সংগৃহীত নথিপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সূক্ষ্মভাবে এক্স-রে করে কোন কোন কর্মকর্তার পকেটে এই অবৈধ ভাড়ার টাকা ঢুকল, তা চিহ্নিত করা হবে এবং কমিশন বরাবর জমা দেওয়া হবে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।











