• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • সোমবার , ৯ জুন ২০২৫ ,২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • অপরাধ

    উপসচিব ভাইয়ের ছায়ায় লিপটনের সন্ত্রাস | পর্ব-০১

      এম এইচ মুন্না ৯ জুন ২০২৫ , ৮:১৫:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ

    যেখানে মজুত বিদেশি অস্ত্র, শর্টগান, ম্যাগাজিন, শত শত রাউন্ড গুলি, সেখানে ছিলেন একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা—নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আলমগীর কবির বাইরন। ঘটনাটি যদি বাংলাদেশ না হয়ে অন্য কোনো দেশে হতো, তবে প্রথম জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তেন তিনিই। কিন্তু কুষ্টিয়ার সেই অস্ত্রভাণ্ডার থেকে গ্রেফতার করা হয় শুধু চরমপন্থী জাহাঙ্গীর কবির লিপটনকে। অথচ ঘটনার সময় ঘটনাস্থলেই ছিলেন উপসচিব ভাই। এবং আজও তিনি একটি শব্দ বলার প্রয়োজনবোধ করেননি।

    পেশাগত দায়িত্বে যিনি দেশের জনগণের অর্থে বেতন নেন, রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন, তিনিই যখন কৌশলে প্রশ্ন এড়িয়ে যান, সাংবাদিকের ফোনকল ‘প্লে-মিসড’ করেন, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠানোর পর সেটি দেখে সরাসরি সাংবাদিককে ব্লক করে দেন, তখন সেটি নিছক অবহেলা নয়, বরং তা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রতি ঔদ্ধত্যপূর্ণ বিদ্রুপ।

    এটি কেবল বিস্ময়ের বিষয় নয়—এটি এক রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার নগ্ন উদাহরণ। অস্ত্রভাণ্ডারে উপস্থিত থাকার পরেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি কেন? তার ভূমিকা তদন্ত করা হয়নি কেন? কিসের এত দায়বদ্ধতা? একজন উপসচিব কি আইনের ঊর্ধ্বে?

    প্রশ্নের মুখে তিনি পালিয়েছেন, কিন্তু প্রশ্ন তো এখন জনতার। আমরা জবাব চাই—তিনি ওই বাড়িতে কী করছিলেন? লিপটনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কি কেবল রক্তের, না কি রাষ্ট্রীয় প্রভাবের নিরাপদ ব্যাকআপ?

    উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীর কবির লিপটন কুষ্টিয়ার এক কুখ্যাত অপরাধী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র ব্যবসা, খুন, চাঁদাবাজি ও চরমপন্থার মাধ্যমে একটি অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। তার বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। র‌্যাব ও প্রশাসনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ বহুদিন ধরেই আলোচিত। অথচ এই লোকটির বাড়ি থেকে যখন অস্ত্র উদ্ধার হয়, তখন তার আপন ভাই উপসচিব বাইরনকে নিয়ে একেবারেই নিশ্চুপ রাষ্ট্রযন্ত্র। কেন?

    তাঁর অবস্থান ও আচরণ আজ প্রশ্নবিদ্ধ। রাষ্ট্র কি এমন কর্মকর্তাদের দায়িত্বে রেখে জনসেবা নিশ্চিত করতে চায়? যিনি সাংবাদিকের প্রশ্ন শুনে কৌশলে নিখোঁজ হন, গণমাধ্যমকে ব্লক করেন, এবং চুপচাপ নিশ্চিহ্ন হয়ে যান—তাঁর মতো কর্মকর্তা প্রশাসনে থেকে দেশের কি উপকার হচ্ছে?

    উপসচিব আলমগীর কবির বাইরনের এই নীরবতা আর হোয়াটসঅ্যাপে ব্লক করাটা ছোট ঘটনা নয়, এটি হলো রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহির মুখে একটি ধৃষ্টতা। আমরা জানতে চাই, তিনি জবাব দেবেন কি না। নাকি প্রশাসনের ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে তিনি নিজেকে untouchable ভাবছেন?

    আজ কুষ্টিয়ার মানুষ চায় জবাব। আজ সাংবাদিকতা চায় স্বচ্ছতা। এবং আজ এই প্রশ্নটা তোলা জরুরি—একজন উপসচিব যদি অস্ত্রভাণ্ডারে উপস্থিত থাকেন, এবং প্রশ্ন শুনে ব্লক করে দেন, তাহলে দেশের মানুষ আর বিচার কোথায় খুঁজবে?

    চলবে…