নিজস্ব প্রতিনিধি ২৬ জুন ২০২৬ , ৩:০৩:০৩ প্রিন্ট সংস্করণ
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) তবিবুর রহমান তালুকদারকে ঘিরে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ঠিকাদারি প্রভাব, অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের দায়িত্বে থেকে তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সুযোগকে ব্যক্তিগত প্রভাব ও সম্পদ বৃদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত করেছেন, এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, রাজধানীর ধানমন্ডির অভিজাত এলাকায় একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে তবিবুর রহমান তালুকদারের পরিবারের বসবাস। ভবনটির নিরাপত্তাকর্মীর ভাষ্য, তারা যে ফ্ল্যাটে থাকেন তার বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। একজন সরকারি কর্মকর্তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে এমন জীবনযাত্রা ও সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনুসন্ধানসংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের একটি গাড়ির নিবন্ধন নথিতে রাজধানীর ধানমন্ডির আরেকটি আবাসিক ভবনের একটি ফ্ল্যাটের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই বাসায় তবিবুর রহমানের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। বিষয়টি তার সম্পদ ও আবাসন-সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় যোগাযোগ করা হলে এক নারী নিজেকে তবিবুর রহমান তালুকদারের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিলেও অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অপরদিকে, আরেক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে তবিবুর রহমানকে চেনেন না বলে দাবি করেন। ফলে অনুসন্ধানে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য ও বাস্তব অবস্থার মধ্যে অসঙ্গতির বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।
সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার বাসিন্দা হলেও নিজ এলাকায় দৃশ্যমান সম্পদের তুলনায় জেলা শহরে তার উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি। তাদের অভিযোগ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদার নির্বাচন ও কার্যাদেশ বণ্টনের ক্ষেত্রে তিনি নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের অগ্রাধিকার দিতেন এবং এ প্রক্রিয়ায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, যারা পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি, তারাও অভিযোগ করেন যে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বণ্টনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদার ধারাবাহিকভাবে সুবিধা পেতেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের পরিবর্তে প্রভাবনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
অনুসন্ধানে সিরাজগঞ্জ শহরে একটি বহুতল ভবনের তথ্যও উঠে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবনটি তবিবুর রহমান তালুকদারের পরিবারের মালিকানাধীন এবং তার স্ত্রী নাসিমা আক্তারের নামে থাকা জমির ওপর নির্মিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটি নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় এক ব্যক্তি তবিবুর রহমান তালুকদারের একাধিক বিয়ের দাবি করেন। একই সঙ্গে জমি ক্রয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ এবং অতিরিক্ত জমি ভোগদখলের অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ এই প্রতিবেদনের হাতে আসেনি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকল্প পরিচালক তবিবুর রহমান তালুকদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।











