• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • বুধবার , ২১ মে ২০২৫ ,৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • অপরাধ

    চেয়ার বাঁচাতে বিএনপির ছায়ায় দুলাল মিয়া! | পর্ব- ০২

      প্রতিনিধি ২১ মে ২০২৫ , ১১:১৮:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ

    প্রথম পর্ব প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে পুরো মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন। মোঃ দুলাল মিয়ার রাজনৈতিক দ্বিচারিতা ও সুবিধাবাদী মনোভাব জনসমক্ষে আসতেই পাল্টে গেছে তাঁর কৌশল। এবার তিনি খোলাখুলি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে নিজেকে বিএনপি বান্ধব চেয়ারম্যান বানাতে উঠেপড়ে লেগেছেন।

    বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কিছু অসাধু সুবিধাবাদী নেতাকর্মী দুলাল মিয়াকে রাজনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
    দুলাল মিয়া এখন ইউনিয়নে ঘোষণা না দিয়েই গোপনে বিভিন্ন বিএনপি-ঘেঁষা লোকজনকে অর্থ দিয়ে পাশে টেনে নিচ্ছেন।

    স্থানীয়দের ভাষায়, “যেই লোক একসময় আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে মানুষকে ভয় দেখাতো, এখন সে আবার বিএনপির লোকজনকে নিয়ে গাঁটছড়া বাঁধছে। ওর কোনো দল নাই, ওর দল শুধু টাকা আর চেয়ার।”

    আরও জানা গেছে, প্রথম পর্ব প্রকাশের পর থেকেই দুলাল মিয়া একধরনের অস্থিরতায় ভুগছেন। তিনি তার ঘনিষ্ঠদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করে এখন উল্টো হুমকির আশ্রয় নিচ্ছেন। একজন সচেতন নাগরিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন— “একজন লোক প্রকাশ্যে দুই দলের সঙ্গে খেলছে, অথচ প্রশাসন চুপ কেন? কারা তাঁকে এই সাহস দেয়?”

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ধরণের রাজনৈতিক রঙ পাল্টানো চরিত্র আসলে গণতন্ত্রের জন্য এক বিপজ্জনক বার্তা। একজন ব্যক্তি একাই যদি দুই দলের সুবিধা ভোগ করে, তবে সেটি দলের নয়—ব্যক্তির দুর্নীতির জাল বিস্তার মাত্র।

    প্রশ্ন উঠেছে—
    যে দুলাল মিয়া এক সময় ছাত্রদের রক্তচক্ষু দেখিয়েছিল, এখন আবার ক্ষমতা রক্ষায় বিএনপির ছায়ায় নিরাপত্তা খোঁজে! তাহলে তার চেয়ারের পেছনে কে?

    স্থানীয় সরকার বিভাগের এলজন সিনিয়র দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন—
    “একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যদি রাজনৈতিক আদর্শহীনভাবে বারবার অবস্থান বদলায় ও দুই দলের সুবিধা নেয়, সেটি অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ আসলে আমরা তদন্ত করব এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।”

    তিনি আরও বলেন—
    “ইউনিয়ন পরিষদ একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, কিন্তু এর সদস্যদের দায়িত্ববোধ থাকা জরুরি। কোনো প্রকার সুবিধাবাদী আচরণ বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।”

    চলবে…