• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • শুক্রবার , ৯ মে ২০২৫ ,৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • অপরাধ

    মফিজুলের গোপন সাম্রাজ্য: রাজস্ব বিভাগের এক সাবেক কর্মকর্তার ছায়া-সম্পত্তি ও তদবিরতন্ত্রের অন্ধকারচিত্র

      প্রতিনিধি ৯ মে ২০২৫ , ৭:৩৫:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ

    নিজস্ব প্রতিনিধি : দেখতে একজন সাধারণ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা—মফিজুল হক। রাজস্ব বিভাগের সাবেক পরিচিত মুখ। অথচ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র—তিনি কেবল কর আদায়ের দায়িত্বে ছিলেন না, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার করে গড়েছেন একাধিক অপ্রকাশিত সম্পদের সাম্রাজ্য, যেগুলোর খোঁজ পাওয়া যায়নি তার জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে।

    অন্ধকারে গড়ে ওঠা সম্পদজালের খোঁজ মেলে ‘গণতদন্ত’-এর অনুসন্ধানে

    দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মফিজুল হক চাকরিজীবনের সময়ে এবং অবসর-পরবর্তী সময়েও নাম ও বেনামে একাধিক সম্পদ অর্জন করেন, যার সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা বিবরণ এই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি জননিরাপত্তা ও সাংবাদিকতার নৈতিক কারণে। তবে নিশ্চিত করে বলা যায়, এগুলো তার আয়কর রিটার্ন বা দুদকে দাখিল করা বিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত নেই—যা সরাসরি ফৌজদারি অপরাধের আওতাভুক্ত।

    সুবিধাবাদী সম্পর্ক ও তদবিরের খাঁচায় আটকে থাকা তদন্ত

    বিভিন্ন সূত্র ও দাপ্তরিক নথি ঘেঁটে জানা যায়, মফিজুল হকের বিরুদ্ধে দাখিল করা দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ একাধিকবার দুদকের তদন্তের আওতায় আসলেও তা অগ্রসর হয়নি বা মাঝপথে ঝিমিয়ে পড়েছে। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এক ভয়ংকর বাস্তবতা—তিনি কিছু অসাধু ও প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে আঁতাত করে তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছেন।

    বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, মফিজুল হক মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে এই কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা চালিয়েছেন, যাতে তার নামে থাকা কিংবা বেনামে অর্জিত সম্পদের সঠিক অনুসন্ধান থেমে যায় এবং তিনি আইনি ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে পারেন।

    আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, ক্ষমতার দম্ভে অটল

    সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার শপথ গ্রহণ করা হয়েছিল, বাস্তবে মফিজুল হকের বেলায় তা রীতিমতো তামাশায় পরিণত হয়েছে। সম্পদের তথ্য গোপন করা যেমন গুরুতর অপরাধ, তেমনি তদন্ত প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে রাজনৈতিক-প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো আরেক ধরণের ভয়ংকর অপরাধ—যা গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রকাশ করে।

    এটা কোনো রিপোর্টের শেষ নয়—এটা শুরু

    মফিজুল হকের মতো ব্যক্তিরা যখন ‘প্রভাব’ আর ‘তদবিরের’ চাদরে নিজেদের ঢেকে নেন, তখন দুর্নীতি এক কঠিন বাস্তবতায় রূপ নেয়।

    চলবে….