• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • সোমবার , ১০ মার্চ ২০২৫ ,৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • অপরাধ

    বদলিও মানছেননা এলজিইডি প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান -০১

      নিজস্ব প্রতিনিধি ১০ মার্চ ২০২৫ , ৫:২৬:৩২ প্রিন্ট সংস্করণ

    ????????????????????????????????????

    ঢাকা: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন, চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে সম্প্রতি সেতু ডিজাইন শাখায় বদলি করা হয়েছে। তবে, বদলির আদেশ জারি হওয়ার পরও তিনি ঢাকাতেই আগের দপ্তরে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। এ নিয়ে এলজিইডির ভেতরে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে, যা পুরো প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলেছে।

    এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ মিয়ার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মাহবুবুর রহমানকে সেতু ডিজাইন শাখায় বদলি করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তিনি সেখানে যোগদান করেননি। বরং ঢাকার আগের দপ্তরে বসে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

    প্রশ্ন উঠেছে, একজন সরকারি কর্মকর্তার কীভাবে এত ক্ষমতা থাকে যে, তিনি বদলি আদেশ অমান্য করেও বহাল তবিয়তে কাজ চালিয়ে যান? এলজিইডির বিভিন্ন কর্মকর্তারা জানান, এটি কোনো একক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়মের অংশ। মাহবুবুর রহমান এর আগেও বদলির আদেশ পেয়েও দেরি করে যোগদানের নজির রেখেছেন।

    এলজিইডির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, বদলি আদেশ বাস্তবায়ন ঠেকাতে মোটা অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়। মাহবুবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বদলি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের মুখে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের সুবিধার্থে বদলির আদেশ আটকে রাখেন, ফাইল আটকে রাখেন এবং সুবিধাজনক বদলি আদেশ করিয়ে নেন।

    এলজিইডির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দপ্তরের অনেক কর্মকর্তাই বদলির শিকার হয়েছেন, কিন্তু মাহবুবুর রহমানের ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র দেখা যায়। তিনি নিজের ইচ্ছেমতো বদলি আদেশ বাস্তবায়ন করেন বা আটকান। এত ক্ষমতার উৎস কী?”

    অভিযোগ রয়েছে, মাহবুবুর রহমান এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল আটকে রেখে দুর্নীতি করেন। সরকারি প্রকল্পের বিল অনুমোদন থেকে শুরু করে দরপত্র অনুমোদন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব রয়েছে। তিনি কেবল নিজের স্বার্থ রক্ষা করতেই বদলির আদেশ আটকে রেখেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং শৃঙ্খলার প্রশ্নে এ ধরনের অনিয়ম প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়েও জনমনে ক্ষোভ রয়েছে।

    এলজিইডির কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করে মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। না হলে এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতেও চলতেই থাকবে, যা সমগ্র প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।