• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • বৃহস্পতিবার , ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ,২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • অপরাধ

    সাবরেজিস্টার শাহিন আলমের সম্পদের পাহাড়

      নিজস্ব প্রতিনিধি ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ , ১২:৫৯:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ

    মোহাম্মদপুর সাবরেজিস্টার শাহিন আলমের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও অফিসের কর্মচারীদের দাবি, তার নেতৃত্বে সাবরেজিস্ট্রার অফিসকে ঘিরে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র গড়ে উঠেছে। এদের মাধ্যমেই তিনি অবৈধ লেনদেন চালিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। তার এসব কর্মকাণ্ডের ফলেই বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং অস্বাভাবিক সম্পদ গড়ে তোলার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহিন আলমের নামে-বেনামে অসংখ্য সম্পদ রয়েছে। তার নিজ এলাকা আলফাডাঙ্গার বাঁকাইল গ্রামে একটি একতলা বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। একই এলাকার পাশে তিনি আরও ২০ শতক জমি কিনেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এ ছাড়াও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ফিংগলিয়া মৌজায় প্রায় এক একর আয়তনের একটি মৎস্যঘের কিনেছেন, যার মূল্য ৮০ লাখ টাকা।

    কামরাঙ্গীরচরে তার ভাইয়ের নামে ৪২৫ অযুতাংশ জমি কিনে সেখানে ছয়তলা একটি ভবন নির্মাণ করেছেন। পরবর্তীতে ওই জমি ও ভবন তার ভাইয়ের নাবালক সন্তানের নামে ‘হেবা মূলে’ রেজিস্ট্রি করে দেন। এ প্রক্রিয়ায় জমির রেজিস্ট্রেশন খরচ হিসেবে মাত্র চার লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।

    তদন্তে আরও উঠে আসে, সাবরেজিস্ট্রার শাহিন আলমের নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি টাকার এফডিআর এবং সঞ্চয়পত্র রয়েছে। অথচ তার মাসিক বেতন মাত্র ৫০-৫৫ হাজার টাকা। এমনকি তিনি মাসে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করেন এবং চালকের বেতন দেন ৩০ হাজার টাকা। এ ছাড়া আয়কর রিটার্নে তার বার্ষিক আয় মাত্র ৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।

     

    মোহাম্মদপুর সাবরেজিস্ট্রার অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের দরজার সামনে সক্রিয় দালাল চক্র। তাদের মধ্যস্থতায় ফাইল অনুমোদনের কাজ হয়। অভিযোগ রয়েছে, সাবরেজিস্ট্রার শাহিন আলম কোনো ফাইল খতিয়ে না দেখে বিশেষ ব্যক্তিদের ইশারায় স্বাক্ষর করেন।

    এ বিষয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “অফিসের কোনো কাজ দালাল ছাড়া হয় না। এখানে নিয়ম মানার কোনো বালাই নেই। আমরা সাধারণ মানুষ অনেক সময় কাজ করাতে এসে হয়রানির শিকার হই।”

    অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, “স্যার (শাহিন আলম) সরাসরি কোনো কাজ করেন না। তার কিছু নির্দিষ্ট লোক সব দেখাশোনা করে। অনেক সময় আমরা নিজেরাও সমস্যায় পড়ি।”

    অফিসের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই অফিসে মাস্টাররোল কর্মচারীরাই বেশি দাপট দেখায়। স্যারের নজরদারিতে সব কিছু হয়। যারা টাকা দেয়, তাদের কাজ হয়।”

     

    এই বিষয়ে জানতে সাবরেজিস্টার শাহিন আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাকে মেসেজ পাঠানো হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    সাবরেজিস্টার শাহিন আলমের সম্পদ ও কার্যকলাপ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তার বিরুদ্ধে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।