নিজস্ব প্রতিবেদক ১ নভেম্বর ২০২৬ , ১১:৫৯:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ
পেশাদারিত্বের মুকুট পরা সৎ ও দক্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের চরিত্রহননের হীন মানসিকতা আমাদের সমাজের এক পুরনো ব্যাধি, যা আজ নতুন মোড়কে ডালপালা মেলছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেজগাঁও বিভাগের কাস্টমস উপ-কমিশনার সাবরিনা আমিনকে নিয়ে বাজারে যে কল্পকাহিনি ও মনগড়া খবরের পসরা সাজানো হয়েছে, তা কেবল ডাহা মিথ্যাই নয়, বরং একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্তের বিকারগ্রস্ত বহিঃপ্রকাশ মাত্র। প্রতিপক্ষের কুচক্রী মনস্তত্ত্ব থেকে অবলীলায় ছড়িয়ে দেওয়া এই অবাস্তব ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারের মূল লক্ষ্য হলো একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনামকে ধুলিসাৎ করা। অথচ একটু গভীরে অনুসন্ধান চালালেই দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, সংবাদে উল্লিখিত প্রতিটি সম্পত্তি বা ব্যবসায়ে বিন্দুমাত্র অবৈধতার গন্ধ নেই, বরং এর পুরোটাই পারিবারিক উত্তরাধিকার এবং সুদীর্ঘকালের বৈধ ব্যবসার সোনালী ফসল।
যে আকাশচুম্বী সম্পদের পাহাড়ের কথা ফুটিয়ে তুলে জনমনে বিভ্রান্তির ধোঁয়া তোলা হয়েছে, তার পেছনে আইনি বা বাস্তবভিত্তিক লেশমাত্র সত্যতা নেই; কেননা সাবরিনা আমিনের পরিবার বংশপরম্পরায় এ দেশের অন্যতম সফল ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী সমাজ হিসেবে পরিগণিত। তাদের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক সাম্রাজ্যের গভীরে শিকড় গেড়ে রয়েছে সুপরিচিত রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, বাংলার ঘরে ঘরে সমাদৃত ‘আরাম নারিকেল তেল’ কোম্পানি এবং বহুল বিস্তৃতির চামড়া শিল্প। প্রজন্মান্তরে বহমান এই রমরমা পারিবারিক ব্যবসার প্রতিটি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অনুকূলে রয়েছে নিখুঁত আইনি দলিল এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্তির অকাট্য নথিপত্র, যা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। এই বৈধ ও পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সম্পদকে সংকীর্ণ মানসিকতার রঙিন চশমা দিয়ে দুর্নীতির রঙে রাঙানোর অপচেষ্টা নিছক হীনম্মুন্যতা ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না।
একজন নিখাদ ও দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সাবরিনা আমিন কখনোই আইনের সীমানা লঙ্ঘন করেননি, বরং প্রতিটি মুহূর্তে নিয়মকানুনকে লালন করেই নিজের পেশাগত জীবন পরিচালনা করেছেন। তাঁর ট্যাক্স ফাইলের পরতে পরতে আয়ের স্বচ্ছ উৎস, পারিবারিক ব্যবসার বৈধ বিস্তার এবং সম্পত্তির নাড়িভক্ষ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জমা দেওয়া আছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কড়া মেজাজের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের শাসনামলে যখন সিআইসি (CIC) দিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদের ফাইলগুলোকে চিরে চিরে অডিট ও কঠোর পরীক্ষার মুখোমুখি করা হয়েছিল, তখনো এই কর্মকর্তার ফাইল নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল। সেদিনও তিলমাত্র অনিয়ম বা অসঙ্গতির বিন্দুমাত্র সন্ধান মেলেনি, যা তাঁর পাহাড়সম পেশাগত সততার সবচেয়ে বড় ও জোরালো প্রমাণ।
পূর্বাচল, ধানমন্ডি কিংবা রাজধানীর অভিজাত এলাকার ফ্ল্যাট ও জমির যে ফিরিস্তি সংবাদে দেওয়া হয়েছে, তার প্রকৃত বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন ও যৌক্তিক। তাঁদের পারিবারিক রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সাথে মূল জমি বা প্লটের মালিকদের চুক্তি অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক জয়েন্ট ভেঞ্চার (Joint Venture) বা যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এসব আধুনিক আবাসিক ভবন নির্মাণের কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে। রিয়েল এস্টেট ব্যবসার এই চিরন্তন ও স্বাভাবিক নিয়মকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করে কিংবা না বুঝে এটিকে অবৈধ সম্পদের খতিয়ান বলে চালিয়ে দেওয়া বড্ডই বেমানান।
অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে এসেছে যে, সম্প্রতি তাঁদের পারিবারিক মালিকানাধীন একটি ওয়াশিং প্লান্টের পার্টনার বা অংশীদারদের অভ্যন্তরীণ চৌহদ্দিতেই ব্যবসায়িক বিরোধ ও জটিলতার কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। আর এই ঘরের ভেতরের কলহ ও দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়েই প্রতিপক্ষের ধান্দাবাজ মহলটি সাংবাদিকদের কানে ভুল, আংশিক ও বিকৃত তথ্য ঢেলে দিয়ে এই মনগড়া কাহিনি তৈরি করিয়েছে। ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক কোন্দলের গভীর ক্ষতকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে একজন কাস্টমস কর্মকর্তার কপালে দুর্নীতির কালিঝুলি লেপে দেওয়ার এই হীন চক্রান্ত অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও গর্হিত অপরাধ। জনতা ব্যাংক থেকে ভুঁইফোড় ঋণ জালিয়াতি, ভুয়া মেশিন আমদানির নামে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার কিংবা অপপ্রচারেরঅন্য কোনো কর্মকর্তার পকেট থেকে জোর করে অর্থ আদায়ের যে রোমাঞ্চকর থ্রিলারধর্মী তথ্য বাজারে ছাড়া হয়েছে, তার সাথে বাস্তবের জমিনের দূরতম কোনো সম্পর্কও নেই। ব্যাংকিং বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যেকোনো ঋণ বা এলসি (LC) কার্যক্রম তো মুখের কথা নয়, বরং কঠিন নিয়মনীতি, কঠোর ব্যাংকিং অডিট এবং নিখুঁত আইনি কাঠামোর জটিল বেড়াজালের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। ন্যূনতম কোনো প্রমাণ বা সত্যতার বালাই ছাড়াই এহেন গুরুতর ও মনগড়া অপবাদ ছড়ানো কেবল মানহানির চরম দৃষ্টান্ত। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাইয়ের ধার না ধেরে এবং কাঁচা অসত্য তথ্যের ওপর ভর করে একটি প্রতিষ্ঠিত বনেদি পরিবারের দীর্ঘদিনের সামাজিক মর্যাদা এবং একজন সৎ কর্মকর্তার সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার নিয়ে এই যে মশকরা চলছে, তা সাংবাদিকতার নীতিমালার চরম লঙ্ঘন। সাবরিনা আমিনের সমস্ত সম্পত্তি পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত এবং পুরোপুরি বৈধতার চাদরে মোড়ানো। সুতরাং, স্বার্থান্বেষী মহলের এই বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে কান না দিয়ে, বস্তুনিষ্ঠ ও সত্যনিষ্ঠ তথ্য উদঘাটনের মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত সত্যেই তুলে ধরা উচিত।











