প্রকৌশল সংবাদ ৭ জুন ২০২৫ , ৪:৩০:২১ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের ৩২ নম্বর শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় গা-ছাড়া ভাব নিয়ে বসে থাকা প্রতিষ্ঠান A & S Trade Link-এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছে প্রায় ৮৩ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির গুরুতর অভিযোগ। ব্যবসা আড়ালে, গোপন চুক্তি সামনে রেখে রাষ্ট্রের অর্থ ভান্ডারে হাত ঢুকিয়ে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি—এমনটাই জানাচ্ছে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র।
তবে যা আরও ভয়ংকর—এই চাঞ্চল্যকর অর্থ কেলেঙ্কারির নেপথ্যে রয়েছে এক ‘বন্ধুত্বের শীতল ছাতা’, যার নিচে বসে দৃশ্যত অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক Md. Badrul Alam Khan। অভিযোগ উঠেছে, তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, আর সেই সম্পর্কের ‘সুবিধা’ নিয়েই বারবার ফাঁকি দিচ্ছেন রাষ্ট্রীয় আইনি ও আর্থিক কাঠামোকে।
প্রাপ্ত কাগজপত্র বলছে, A & S Trade Link বেশ কয়েকটি বিল অব এন্ট্রিতে আমদানিকৃত গাড়ি ও যন্ত্রাংশের প্রকৃত মূল্য গোপন করে কম মূলে ঘোষণাপত্র দাখিল করেছে। এতে সরকার প্রাথমিকভাবে ৮৩ লাখ টাকার রাজস্ব হারিয়েছে, যা আদতে আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে শুল্ক বিভাগ।
এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, ভুল ঘোষণা দিয়ে কোটি কোটি টাকার গাড়ি আমদানি করার পরও কিভাবে প্রতিষ্ঠানটি নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়েই সামনে আসে প্রভাবশালী বন্ধু নামক ‘নির্ভরযোগ্য ব্যাকআপ’—NBR চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান।
ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রমাণ থাকার পরও তদন্ত বন্ধ হয়ে যায়। উপরের মহলের ‘ইঙ্গিত’ থাকলে আমাদের কিছু করার থাকে না।”
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বদরুল আলম খানের একাধিক ঘনিষ্ঠ অনুষ্ঠান ও পারিবারিক আয়োজনের অতিথি ছিলেন চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান নিজে। এর ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা একপ্রকার ব্যঙ্গ করছে “আইনের চোখে সবাই সমান” এই রাষ্ট্রীয় নীতিকে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, বদরুল আলম খান নিজেকে “চেয়ারম্যান সাহেবের বিশেষ মানুষ” বলে পরিচয় দেন এবং প্রায়শই শুল্ক বিভাগের সঙ্গে ‘তদবিরসুলভ’ আচরণে অভ্যস্ত। প্রশ্ন উঠেছে—ব্যবসা করছেন, না প্রভাবের জোরে রাষ্ট্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন?
এমন প্রেক্ষাপটে কর সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, “এই ধরনের কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত হওয়া উচিত। প্রভাবশালী হোক আর না হোক, কর ফাঁকি ফৌজদারি অপরাধ।”
এ বিষয়ে জানতে A & S Trade Link-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক Md. Badrul Alam Khan-কে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরবর্তীতে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলে একবার ফোন রিসিভ করে পরে কথা বলবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকেও কেউ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।











