• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • বৃহস্পতিবার , ৫ নভেম্বর ২০২৬ ,২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রকৌশল সংবাদ

    রাঙ্গামাটিতে সওজের জমিতে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড

      নিজস্ব প্রতিবেদক  ৫ নভেম্বর ২০২৬ , ১২:৫৬:০১ প্রিন্ট সংস্করণ

    রাঙামাটি শহরের ভেদভেদী এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সরকারি জমি দখলের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মাদ্রাসার পবিত্র নাম ও সাইনবোর্ডকে ঢাল বানিয়ে সরকারি সম্পত্তি গিলে খাওয়ার এই মহোৎসবে মেতে উঠেছে এক প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র। দিনের আলোয় তোড়জোড় আর রাতের আঁধারে ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে সওজের স্টাফ কোয়ার্টার ও কর্মচারীদের ব্যারাক মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। অথচ ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এই চক্রটি বহালতবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবৈধ কারবার।

    ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ ও ২৮ অক্টোবর, যখন সওজের ফাস্ট লাইন ওয়ার্কশপের অধীন কর্মচারীদের আবাসন ও পুরোনো ব্যারাক ভেঙে টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। কেবল দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি এই চক্র; বাধা দিতে যাওয়া সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী রনেন চাকমা ও কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হয়ে প্রাণনাশের প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার অপচেষ্টা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিনিয়ত হেনস্তা করার মতো দুঃসাহসও দেখিয়েছে তারা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অত্যন্ত সুকৌশলে এই দখলকৃত জায়গায় গড়ে তোলা হচ্ছে দোকানঘর, যা পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের সেলামি ও অগ্রিম ভাড়ার বিনিময়ে সাধারণ মানুষের কাছে হাতিয়ে নেওয়ার রমরমা বাণিজ্যিক পরিকল্পনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রের মূল হোতারা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার ফন্দি আঁটছে।

    মুসলিম পাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা মনি স্বপন কামাল এই অপকর্মের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জানিয়েছেন যে, কেবল সওজ নয় সংশ্লিষ্ট এই সিন্ডিকেটটি বেতার কেন্দ্র ও হ্যাচারির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি জায়গাও দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত। মো. রুবেল, অন্ত দাশ, আলা উদ্দীন জয় ও রবি আহম্মেদদের মতো কুশীলবরা নিজেদের দলীয় রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে রাঙামাটির সরকারি সম্পদ লুটে খাচ্ছে।

    এদিকে রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বিষয়টি নিয়ে জোন কমান্ডার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন। অন্যদিকে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দীন জানিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি জবরদখলের এই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রুজু করা হয়েছে এবং আদালতের অনুমতি পেলেই এই থলের বেড়াল বের করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হবে।