এম এইচ মুন্না ৮ নভেম্বর ২০২৬ , ৮:০৮:২২ প্রিন্ট সংস্করণ
অর্থসংকটের অদৃশ্য দেয়াল ডিঙাতে না পেরে বিদ্যুৎ বিভাগের আড়াই শ খাম্বাকে সাক্ষী রেখেই সম্পন্ন হলো কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়কের নবনকশার বিপুল নির্মাণযজ্ঞ। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাড়ে ২৫ কোটি টাকার বাজেটে ২৪ ফুট প্রশস্ত এই সড়ক যখন যোগাযোগব্যবস্থায় এক অনন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচনের মহাসাধনায় মগ্ন, ঠিক তখনই পল্লী বিদ্যুতের শতাধিক অবাধ্য খুঁটির অচল কায়াফাটে পথচারী আর চালকদের যাত্রাপথ আটকে দাঁড়িয়েছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট। ঠিকাদারের রোলার চলেছে নিখুঁত নিয়মে, পিচের মসৃণ প্রলেপ পড়েছে জনকল্যাণের টানে, কিন্তু ইউটিলিটি শিফটিংয়ের ঐতিহ্যবাহী জটিলতাকে বুকে চেপেই দৃশ্যায়ন ঘটেছে সাড় চার কিলোমিটারের এক অদ্ভুত কাঠামোর।
সরেজমিনে দেখা যায়, সওজের মূল নকশায় সুবিশাল চওড়া সড়কের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবতার ক্যানভাসে বিদ্যুৎ বিভাগের পুরোনো খুঁটিগুলোর কারণে তৈরি হয়েছে এক অনভিপ্রেত গোলকধাঁধা। সড়কের পিচঢালা কালো কাপড়ের বুক চিরে সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকা পুরোনো খাম্বাগুলো রাতের আঁধারে চালক ও পথচারীদের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা হয়ে উঠেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে সড়কটি উন্মুক্ত হওয়ার আগেই জনস্বার্থে অটোরিকশাসহ ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করায় দিনের আলোতেই চালকদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রতিটি বাঁক অতিক্রম করতে হচ্ছে। তবে এই দৃশ্যের নেপথ্যে অনুসন্ধান চালালে বেরিয়ে আসে সওজের পেশাদারিত্ব ও আন্তপ্রাসঙ্গিক সমন্বয়হীনতার এক নাটকীয়তা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাঞ্চন পৌরসভা ও ভোলাবো ইউনিয়নের সঙ্গে নরসিংদীর পলাশ ও ঘোড়াশালসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ জনপদের যোগাযোগের ধমনী হিসেবে সওজ কর্তৃপক্ষ এই মেগা প্রকল্প হাতে নেয়। কাজের গোড়াতেই সড়ক প্রশস্তকরণ ও টেকসই পরিকাঠামো নির্মাণে সওজ নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগব্যবস্থাকে আধুনিক করার মহতী এই উদ্যোগ নেয়।
জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই প্রকল্প শুরুর প্রাক্কালেই সওজ কর্তৃপক্ষ নিয়ম মেনে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কাছে খুঁটি স্থানান্তরের আনুষ্ঠানিক দাপ্তরিক আবেদন জানায়। কিন্তু ইউটিলিটি স্থানান্তরের আর্থিক প্রাক্কলন ও প্রশাসনিক বাজেট ছাড়ের সরকারি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে তৎকালীন বাজেটে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ বিভাগের চাহিদাকৃত পুরো অর্থ ছাড় করা সম্ভব হয়নি। সওজ কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জনস্বার্থে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করতে ৯৫% কাজ শেষ করলেও বিদ্যুৎ বিভাগ অর্থ প্রাপ্তির প্রথাগত অজুহাতে তাদের খুঁটি সরানোর কাজে কাঙ্ক্ষিত গতি আনতে পারেনি।
তবে অবকাঠামোগত এই সংকট নিরসনে ইতিমধ্যেই দুই বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ে বরফ গলতে শুরু করেছে। নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ জানান, জনদুর্ভোগ লাঘবে সড়কের মাঝখানে থাকা খুঁটিগুলো সরানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তাদের নিজস্ব ঠিকাদারকে ইতিমধ্যে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নয়টি খুঁটি সরানোর জটিল কাজ শেষ হয়েছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে বাকি সব কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে তিনি শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে সওজের নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জানান, জনগণের নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সওজ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। খুঁটি সরানোর প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রধান কার্যালয়ে অগ্রাাধিকার ভিত্তিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং অর্থ ছাড় হওয়া মাত্রই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তবে জননিরাপত্তার কথা ভেবে বাজেট ছাড়ের অপেক্ষায় না থেকে এখনই কাজ ত্বরান্বিত করতে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে সওজের পক্ষ থেকে আন্তরিক অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সমন্বিত এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দ্রুতই কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়কটি তার পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে অঞ্চলের অর্থনীতিতে এক স্বর্ণালী অধ্যায়ের সূচনা করবে।





