• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৬ ,১৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রকৌশল সংবাদ

    বরিশাল গণপূর্তে পঞ্জিকা কাঁপানো নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সালের হরিলুট

      নিজস্ব প্রতিবেদক  ২২ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:৫৫:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ

    মুদ্রার চকমকিতে আইনি বিধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেড় কোটি টাকার বিনিময়ে ১৫ কোটি টাকার সরকারি অর্থ অকাতরে বিলিয়ে দেওয়া, আর সামান্য ১০ হাজার টাকার তামাকে ৫০ লাখের অতিপ্রাকৃতিক উধাও বানিয়ে থানা-পুলিশের খাতায় ভেলকি দেখিয়ে বরিশাল চষে বেড়াচ্ছে নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় যখন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত গড়ার কথা, ঠিক তখনই গণপূর্ত অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ে বসে দরপত্রের শর্তকে তুচ্ছ সাব্যস্ত করে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অদৃশ্য চক্রান্ত চলেছে নিরবধি। কোনো কাজের ন্যূনতম পূর্ণতা পাওয়ার আগেই কীভাবে দেড় কোটি টাকার ঘুষের নহর বয়ে গিয়ে ১৫ কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব একলহমায় উবে যায়, তা দেখে স্থানীয় অভিজ্ঞ ঠিকাদাররা নিজেদের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছেন না; তারা অস্ফোটে বলছেন, আইনের কোন ফাঁক দিয়ে এ ধরনের মহাজাগতিক অগ্রিম বিল ছাড় পায়, তা একমাত্র বরিশাল গণপূর্তের সেই বিশেষ অলৌকিক কলমই জানে, যার প্রতিটি আঁচড়ে সরকারের রাজস্ব ভাণ্ডারে পড়েছে বিশাল অঙ্কের গর্ত।

    তবে নাটকের রেশ এখানেই থেমে থাকেনি; নির্মাণাধীন বরিশাল ক্যান্সার হাসপাতালের ৫০ লাখ টাকার দামি তামার পাইপ নাকি এক রাতে বাতাসে মিলিয়ে গেছে, এমনই এক রূপকথা বানিয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা হয়েছিল চোখ কপালে তোলা সাধারণ ডায়েরি। পরে সত্যের অনুসন্ধানে পুলিশ যখন জলঘোলা তদন্তে নামল, তখনই থলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়ে; বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলামের সরল স্বীকারোক্তিতে ফাঁস হয়ে যায় মূল তামাশা, বাস্তবে যা হারিয়েছে, তার বাজারমূল্য সাকল্যে ১০ হাজার টাকার বেশি নয়! কিন্তু ফয়সাল আলমের এই সাজানো চুরির মহানাটকের নেপথ্যে ছিল মালামাল না কিনে কোটি কোটি সরকারি টাকা স্রেফ উদরস্থ করার এক অতি সূক্ষ্ম ফাঁদ, যা হাসপাতালের খোদ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছেও এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।

    এ যেন এক অপরাজেয় প্রবাদের মতো, আইন নিজের গতিতে চললেও এই প্রকৌশলী চলেন নিজ নীতিতে! ১৬ জন নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে তাকে ঢাকায় বদলির লাল ফিতা বাঁধা হুকুম জারি হলেও, সরকারি চেয়ার ছেড়ে যাওয়ার কোনো লক্ষণ তো দূরের কথা, কার্যালয়ের চৌকাঠ না মাড়িয়ে দিব্যি সরকারি বাসভবনের শীতল ঘরে বসে কলমের ডগায় ফাইল সইয়ের অদ্ভুত এক শাসনতন্ত্র চালু করেছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, বরিশাল গণপূর্তের শতবর্ষী প্রাচীন বাংলোর আঙিনায় রাতের আঁধারে নিয়মকানুন গুঁড়িয়ে দিয়ে নতুন পুকুর খননের রোমাঞ্চকর কাজ থেকে শুরু করে সরকারি জ্বালানি ও গাড়ির সাচ্ছন্দে আকছার খুলনা যাতায়াতের মেজাজি বিলাসিতা কোনোটাই বাদ যায়নি তার রাজকীয় তালিকা থেকে।