প্রতিনিধি ২৪ জুন ২০২৫ , ১:৩৬:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ
যশোর বিআরটিএ কার্যালয় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিকতা-বর্জিত অপপ্রচার রীতিমতো বিস্ময়কর। তথাকথিত কিছু ভুয়া সাংবাদিক এবং দালালচক্রের মদদপুষ্ট অসৎ চরিত্রের লোকজন নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য যেভাবে একজন দক্ষ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা এনামুল হক এবং অভিজ্ঞ পরিদর্শক অনিমেষ মন্ডলের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে—তা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, বরং স্পষ্টতই ফৌজদারি অপরাধ।
যশোর বিআরটিএ কার্যালয়ের মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মোঃ এনামুল হক একজন নিষ্ঠাবান সরকারি কর্মচারী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সততা ও কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে নিজের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি যখন দালালচক্র, কাগজপত্র বিহীন গাড়ির মালিক এবং ঘুষ-নির্ভর লেনদেন কাঠামো ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন, তখনই তাকে টার্গেট করে অপপ্রচার শুরু করে একটি সুবিধাভোগী মহল। এই মহলের কিছু নামধারী সাংবাদিক যাদের পরিচয় কেবল প্রেসকার্ড-ব্যবসায়ী, তারাই আজকাল নিজেদের সাংবাদিক পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু হলুদ পোর্টালে বিকৃত, ভ্রান্ত ও মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করছে।
ঢাকা মেট্রো-ট ২২-১৩৭৭ নাম্বারের গাড়ি ফিটনেস দেওয়া নিয়ে যে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মিথ্যাচার ছড়ানো হয়েছে, সেটি পুরোপুরি তথ্যবিকৃতি। উক্ত গাড়িটি ফিটনেস বোর্ডে উতরানো হয়েছে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসারে। গাড়িটির গ্লাস সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত থাকলেও সেটি ট্রাফিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়—এবং এমন অনেক ক্ষেত্রেই বিআরটিএ সুনির্দিষ্ট গাইডলাইনের আওতায় বৈধ ফিটনেস অনুমোদন দিয়ে থাকে। এটি কোনো অনিয়ম নয়—বরং কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে একটি যৌক্তিক ও পেশাদার সিদ্ধান্ত।
অপরদিকে মোটরযান পরিদর্শক অনিমেষ মন্ডল একজন চূড়ান্ত দায়িত্বশীল ও সততাবান কর্মকর্তা, যিনি একাধিকবার ভুয়া কাগজপত্র এবং ভুয়া ফিটনেস সনদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দালালচক্রের আক্রোশের শিকার হয়েছেন। আজ এই সাহসী কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই যখন ঘুষের অভিযোগ তোলা হয়, তখন আসল ষড়যন্ত্রটা স্পষ্ট হয়—দুর্নীতিকে যারা নিয়মে রূপ দিতে চায়, তারাই আজ ঘুষের কালিমায় কলঙ্কিত হচ্ছে।
যারা বলে “সবাই ভাগে খায়”—তাদের জিজ্ঞাসা করা হোক, কে সেই সবাই? কোথায় প্রমাণ? বিআরটিএ অফিসে প্রতিটি ফিটনেসের পর্যালোচনাই ইলেকট্রনিক সিস্টেমে সংরক্ষিত হয়, যা কোনো ব্যক্তির খেয়ালখুশির ওপর নির্ভরশীল নয়। অথচ সেই স্বচ্ছ সিস্টেমকেই কলুষিত করার চেষ্টা চলছে কিছু বস্তাবিহীন বানোয়াট সংবাদ দিয়ে।
এই মুহূর্তে প্রয়োজন—এই অপসাংবাদিকতা এবং মিথ্যাচারকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। একদিকে যখন সরকার ‘ডিজিটাল বিআরটিএ’র আওতায় দুর্নীতি দমন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এগিয়ে চলেছে, তখন কিছু তথাকথিত মিডিয়া কর্মীর এ ধরনের চরিত্রহীন অপতৎপরতা পুরো ব্যবস্থার ওপর আঘাত।
সংশ্লিষ্ট মহলের উচিত—যশোর বিআরটিএর এই দুজন সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাকে তাদের দায়িত্ব পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যেন তারা দালাল-সাংবাদিক সিন্ডিকেটের চাপে না পড়ে বরং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব আরও নিখুঁতভাবে পালন করতে পারেন।
[চলবে…]





