প্রতিনিধি ২১ ডিসেম্বর ২০২৪ , ১১:৫৩:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাথপুর ও মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশ নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ বোর্ডের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন এক ভুক্তভোগী যুবক।
অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে দফাদার (পদোন্নতি) ২টি এবং মহল্লাদার (সরাসরি) ৫টি শূন্য পদের জন্য নিয়ম অনুযায়ী দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে ৯নং হরিনাথপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে মহল্লাদার পদের জন্য ২টি আবেদন এবং ৫নং মহদীপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে মহল্লাদার পদের জন্য ৩টি আবেদন জমা পড়ে।
গত ১৩ ডিসেম্বর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হরিনাথপুর ইউনিয়নের পদের জন্য ২ জন এবং মহদীপুর ইউনিয়নের পদের জন্য মাত্র ১ জন প্রার্থী উপস্থিত হন। নিয়োগ বোর্ডে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান, সঙ্গে ছিলেন থানা অফিসার ইনচার্জ জুলফিকার আলী ভুট্টো ও উপজেলা আনসার ভিডিপি কমান্ডার আব্দুল আউয়াল হোসেন।
পরীক্ষার শুরুতেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শারীরিক যোগ্যতা (সর্বনিম্ন উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি) পূরণ না করায় হরিনাথপুরের তাপস চন্দ্র ও মহদীপুরের আনারুল ইসলাম প্রাথমিকভাবে অযোগ্য ঘোষিত হন। তবে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শারীরিক পরীক্ষায় অযোগ্য ঘোষিত ওই দুই প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বাড়তি সময় দিয়ে সুযোগ করে দেওয়া হয়।
পরে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণায় দেখা যায়, প্রাথমিকভাবে অযোগ্য ঘোষিত তাপস চন্দ্র এবং আনারুল ইসলামকেই নিয়োগপ্রাপ্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এ ঘটনায় হরিনাথপুর ইউনিয়নের বঞ্চিত প্রার্থী কুমার নারায়ণ নিয়োগ বোর্ডের স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রতিকার চেয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, “দুই প্রার্থী ২০ মিনিট দেরি করায় তাদের বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে। শারীরিক যোগ্যতার বিষয়ে বোর্ড সদস্যরা ভালো বলতে পারবেন।”
থানা অফিসার ইনচার্জ জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, “প্রাথমিক মাপে ভুল হয়েছিল, পরে পুনরায় মাপ দেওয়ার পর তা সঠিক পাওয়া যায়।” একই মন্তব্য করেন উপজেলা আনসার ভিডিপি কমান্ডার আব্দুল আউয়াল হোসেন।
(চলবে…)











