নিজস্ব প্রতিনিধি ১১ জুলাই ২০২৫ , ৬:০৫:৪৮ প্রিন্ট সংস্করণ
নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় জুন ক্লোজিং-এর অজুহাতে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে শুরু হয়েছে সীমাহীন দুর্নীতির মহোৎসব। মাত্র কয়েকদিন আগে দায়িত্ব নেওয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ আশরাফুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই উপজেলায় শুরু হয় একের পর এক “সন্দেহজনক” প্রকল্প অনুমোদন, বিল উত্তোলন এবং অর্থ লেনদেনের নামে অবাধ লুটপাটের অভিযোগ।
২৫ মে ২০২৫ তারিখে বর্তমান কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মোঃ আশরাফুল ইসলাম নানা ‘নাটকীয়’ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও ঠিকাদাররা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে গোপন লেনদেনের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি হয়, আর অন্যদিকে প্রকৃত কাজ না করেই কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলনের উদাহরণ পাওয়া গেছে একাধিক প্রকল্পে।
বিশেষ করে জুন মাসের ক্লোজিং ঘিরে বিল-ভাউচার, প্রকল্প অনুমোদন, কাজের প্রমাণপত্র এবং স্বাক্ষর গ্রহণের প্রক্রিয়া চরম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, এমনও একাধিক প্রকল্প রয়েছে যেখানে কাজ আদৌ শুরুই হয়নি অথচ নির্ধারিত অর্থ ইতোমধ্যেই উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারা সম্পন্ন করা হয়েছে।
এমনকি, প্রকৌশল সংবাদ-এর পক্ষ থেকে মোঃ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মেসেজ করেও কোনো উত্তর দেননি। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে গণমাধ্যমের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার এই প্রবণতা তার কর্মকাণ্ডের বৈধতা নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
পিআইও আশরাফুলের কার্যক্রম ঘিরে ডিমলায় এখন সাধারণ ঠিকাদাররা মুখ খুলছেন। তাদের ভাষ্য, কমিশন না দিলে কাজ পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি নির্ধারিত কিছু ঠিকাদার ছাড়া কাউকে কাজ দিতেই দেওয়া হচ্ছে না—এ যেন ক্ষমতার দাপটে ‘মনোনীত দুর্নীতির লাইসেন্স’ চালু করে বসেছেন তিনি।
এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকৌশল সংবাদ কর্তৃপক্ষ একটি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা যায়—জুন ক্লোজিং-এর নামে ‘কাগুজে উন্নয়ন, বাস্তবে কমিশন বানিজ্য’ এই নতুন সংস্কৃতির মূল হোতা হিসেবে যদি মোঃ আশরাফুল ইসলামকে দায়ী করা হয়, তবে তা মোটেও অতিরঞ্জন হবে না।
চলবে….











