এম এইচ মুন্না ২৭ মে ২০২৫ , ৩:৩৯:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রকৌশল সংবাদ: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর প্রধান দপ্তরের অর্থ শাখা এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। উপ-পরিচালক (অর্থ) সরদার মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তীব্রতা এমন এক স্তরে পৌঁছেছে, যা প্রশাসনিক কাঠামোর নৈতিক ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো। ঘুষ, টেন্ডার বাণিজ্য, অস্বাভাবিক সম্পদ সঞ্চয় এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের এই উপাখ্যান ক্রমশই এক ভয়াবহ প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠছে।
সূত্র বলছে, বিআরটিএর আর্থিক ও টেন্ডার কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপে ঘুষ এবং কমিশন প্রাপ্তি যেন একটি অলিখিত রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিকাদারদের কাছ থেকে ‘বিশেষ সুবিধার’ বিনিময়ে নিয়মিত অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। যাদের পক্ষে কাজ পাশ করানো হয়, তারা নাকি পুরস্কৃত হন সরাসরি নগদ কমিশন দিয়ে। অথচ এই অভিযোগগুলো বছরের পর বছর ধরে ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসনিক কোনো দৃশ্যমান তদন্তের নজির নেই।
অর্থের উৎস অজানা, অথচ সম্পদের বহর অগণন
সরদার মাহাবুবুর রহমানের নামে রাজধানীর অভিজাত এলাকাসমূহে—মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি, উত্তরা ও পূর্বাচলে—ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, ডুমুরিয়া, কালিয়া ও নড়াইল এলাকার স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রামে তার নামে ৫০ থেকে ৬০ বিঘা ধানিজমি রয়েছে। এসব জমির কেনা অর্থের উৎস সম্পর্কে তিনি এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
সূত্র বলছে, সরদার মাহাবুবুর রহমানের জীবনধারা তার সরকারি পদের সঙ্গে ভয়ানকভাবে সাংঘর্ষিক। ব্যক্তিগত গাড়ির বহর, দামি রেস্টুরেন্টে নিয়মিত উপস্থিতি, হোটেলকেন্দ্রিক আড্ডা এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন সবই তার ‘অঘোষিত’ আয়ের সম্ভাব্য দিক ইঙ্গিত করে। মাদক, নারী ও জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে—যা এই অনুসন্ধানের গহনে আরও রহস্য ও গভীরতা যোগ করেছে।
প্রতিবাদহীনতা নয়, নিরবতা হয়ে উঠছে প্রমাণ
এই প্রতিবেদনের খসড়া প্রস্তুতের সময় সরদার মাহাবুবুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। তাঁর এই নিরবতা তদন্তের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করেছে।
একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে বেতন কাঠামোর সীমা অতিক্রম করে এত সম্পদের মালিক হন?
এই প্রশ্ন শুধু সংবাদমাধ্যম নয়, রাষ্ট্রকাঠামোর ভেতরে দায়িত্বশীল সকলের জন্যও জরুরি। কেবল গণমাধ্যম নয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিভিল প্রশাসন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত বিভাগগুলোর এখন প্রয়োজন জিরো টলারেন্স দেখানো। এই অনুসন্ধান কোনো একটি ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়—বরং রাষ্ট্রীয় আর্থিক শৃঙ্খলার প্রতি হুমকিস্বরূপ এমনসব সিন্ডিকেট ও স্বার্থচক্রের বিরুদ্ধে জনদাবির বহিঃপ্রকাশ।
চলবে….











