প্রতিনিধি ২ জুলাই ২০২৬ , ১২:২২:১৫ প্রিন্ট সংস্করণ
গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কোটি টাকার প্রকল্পে অংশ নেওয়া একটি যৌথ উদ্যোগ (JV) প্রতিষ্ঠানকে “Non-Responsive” ঘোষণা করে অন্য প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে Notification of Award (NOA) দেওয়ার অভিযোগে গণপূর্ত বিভাগের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী তামজীদ হোসেনের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আইনি নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, দরপত্র মূল্যায়নের সময় টেন্ডার ডকুমেন্টে চাওয়া Similar Nature Work Experience, Experience Certificate, Completion Certificate এবং Scope of Work যথাযথভাবে বিবেচনা না করে সংকীর্ণ ব্যাখ্যার মাধ্যমে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালায় বর্ণিত সমতা, স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
জানা যায়, আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান পূর্বে প্রায় ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি অডিটোরিয়াম প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করে, যেখানে Electrical Wiring, Internal Electrical Works, Stage Lighting System, Sound System, LED Display System, Air Conditioning System, Acoustic Works-সহ আধুনিক বৈদ্যুতিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিল। অথচ সেই অভিজ্ঞতাকে “Similar Nature, Complexity and Construction Technology” হিসেবে মূল্যায়ন না করে প্রতিষ্ঠানটিকে Non-Responsive ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নির্বাহী প্রকৌশলী তামজীদ হোসেনের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত একাধিক উচ্চমূল্যের প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এর মধ্যে টেন্ডার আইডি-১১০৯৩০১ এর আওতায় প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয়ে শাহবাগস্থ বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে আধুনিক ক্লাসরুম নির্মাণ, সাউন্ড, কনফারেন্স ও ইন্টারনেট সিস্টেম স্থাপন; টেন্ডার আইডি-১০৮১৮১০ এর আওতায় প্রায় ৮৯ লাখ ৩৬ হাজার ৯০৩ টাকা ব্যয়ে কাকরাইলস্থ বিএমইটি ভবনের ৫০০ কেভিএ সাবস্টেশন প্রতিস্থাপন; এবং টেন্ডার আইডি-১০৭২১৪৫৮ এর আওতায় প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ ৯০ হাজার টাকার জিএসবি ভবনের ১২৫০ কেভিএ সাবস্টেশন স্থাপনের প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এসব প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়ন ও কার্যাদেশ প্রদানের ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে Limited Tendering Method (LTM)-এর আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন টেন্ডারে অনেক ক্ষেত্রে মাত্র একটি সিডিউল বিক্রি, একটি দরপত্র জমা এবং এরপরই কার্যাদেশ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, এ ধরনের প্রক্রিয়া সরকারি ক্রয়ের প্রতিযোগিতামূলক নীতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আইনি নোটিশে আরও বলা হয়েছে, যদি মূল্যায়নের সময় কোনো অস্পষ্টতা বা তথ্যগত ঘাটতি থেকে থাকে, তবে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির দায়িত্ব ছিল আইনসম্মতভাবে তা পুনর্মূল্যায়ন করা। কিন্তু সেই সুযোগ না দিয়েই NOA জারি করায় পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নোটিশে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে Non-Responsive ঘোষণার লিখিত কারণ, মূল্যায়নের ভিত্তি, অভিজ্ঞতার নথিপত্র পুনর্মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনে NOA-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (BPPA)-এর রিভিউ প্যানেল এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী তামজীদ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।











