নিজস্ব প্রতিবেদক ৬ নভেম্বর ২০২৬ , ১০:৫০:০৬ প্রিন্ট সংস্করণ
ময়মনসিংহ গণপূর্তের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমের একসময় ক্ষয়ে যাওয়া টিনের চালের ফুটো দিয়ে চোখে কোনোরকমে দুবেলা ভাত জোটানোর স্বপ্ন উঁকি দিত, সাকুল্যে সাত বছরের সরকারি চাটুকারিতায় তিনি আজ বহুতল রাজপ্রাসাদের অঘোষিত সম্রাট। ২০১৮ সালে সহকারী প্রকৌশলীর চেয়ারে পা রাখার পরই ফরিদপুরের সদরপুর ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের সেই ভাগ্যবিড়ম্বিত রেজাউল করিমের হাতে যেন আলাদিনের আশ্চর্য চাদর এসে লুটিয়ে পড়ে; যেখানে সততার আকাল থাকলেও ছাত্রলীগ কোটার ক্ষমতার রাজকীয় তুরুপের তাস ছিল ষোলো আনা।
জানা যায়, রাজনীতির ক্ষমতার চোরাগলিতে তদবিরের বিষাক্ত বীজ বুনে এবং বিগত ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী, প্রভাবশালী সংসদ সদস্য ও নীতিনির্ধারক প্রভুদের পায়ে চাটুকারিতার অর্ঘ্য ঢেলে এই ধুরন্ধর প্রকৌশলী অনিয়মের পাহাড়কেও বানিয়ে ফেলেছেন নিজের সুরম্য দুর্গ। ক্ষমতার যে দাপটে চোখের পলকে ধূলিসাৎ হয়ে যেত যাবতীয় তদন্তের ফাইল, সেই একই বিষাক্ত প্রভাবে মাত্র ষষ্ঠ গ্রেডের সামান্য বেতনের চাকুরিতেই তিনি গড়ে তুলেছেন কাঁচা টাকার দুর্ভেদ্য প্রাচীর, অথচ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারী শাসনের যবনিকাপাত ঘটলেও গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই মহা-দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী নিজের খোলস বদলে এখনো ময়মনসিংহে বহাল তবিয়তে স্বপদে আসীন রয়েছেন। শেখ পরিবারের তক্তপোশ ঘেঁষে বসা যে সিন্ডিকেট এতদিন শত শত কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় কোষাধ্যক্ষ লুটেপুটে খাওয়া ময়মনসিংহের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ভাঙা কুঁড়েঘরের সেই শীর্ণ অতীতকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাজধানীর আফতাবনগরের ই-ব্লকের ১৭/১৯ নম্বর ভবনের ‘বি/২’ নম্বর কোটি টাকার বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদোপম ফ্ল্যাটে এখন তাঁর যাতায়াত, চড়ে বেড়ান কোটি টাকার ঝকঝকে ব্যক্তিগত গাড়িতে, আর নামে-বেনামে ফরিদপুর সদর, সদরপুর, রাজধানী ঢাকা এবং কুমিল্লার দেবিদ্বারে স্ত্রীর বাপের বাড়ির বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে কিনে ফেলেছেন রাশি রাশি প্লট, জমি ও অগাধ ভূসম্পত্তি।
এই ধূর্ত রূপকার প্রকৌশলীর নিজের বাবা মোমিন মোল্লা, মা আনোয়ারা বেগম, স্ত্রী ফারহানা সুলতানা, শ্বশুর সুলতান আহমেদ ও শাশুড়ি ফেরদৌসী আহমেদের নামে অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ কিনেছেন। তবে এবিষয়ে জানতে ময়মনসিংহের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রেজাউল করিমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।









