নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ অক্টোবর ২০২৬ , ২:৫২:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
সরকারি স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) চার শতাধিক স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অধিদপ্তরের অব্যবহৃত জায়গায় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মোট ৫ হাজার ১৪৪ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সওজের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভবনের ছাদ ও অব্যবহৃত জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সওজের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্থাপনায় ইতোমধ্যে ৪১০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
প্রধান প্রকৌশলী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৮৪ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৯৬০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ২৪৪ কিলোওয়াট, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াট, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াট এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে এক হাজার ৫০০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
এ পরিকল্পনার আওতায় সওজের বিভিন্ন ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল বসানোর পাশাপাশি অব্যবহৃত খালি জায়গায় মেগাওয়াট-স্কেলের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে।
সওজের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ বা অতিরিক্ত জমি ব্যবহারের প্রয়োজন ছাড়াই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে ব্যবহার করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমবে।
তিনি আরও জানান, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে।
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সৌরশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি ২০৫০ সালের নেট-জিরো জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনেও ভূমিকা রাখবে। এ ক্ষেত্রে সওজের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্রেডার তথ্য অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫-এ ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সওজের সৌরবিদ্যুৎ উদ্যোগের সুফল নিশ্চিত করতে প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, উৎপাদিত বিদ্যুতের কার্যকর ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয়ের হিসাব নিয়মিত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে যথাযথ নজরদারি থাকলে সরকারি স্থাপনায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচ কমানো ও পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।










