নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৫:০০:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নং ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মোঃ রিফাত হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি রাষ্ট্রীয় সেবাকে নিয়মের আওতায় নয়, বরং ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। এতে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি থ্যালাসেমিয়া হাসপাতাল স্থান পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় একটি প্রত্যয়নপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে তিনি ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। অভিযোগে বলা হয়, এই অর্থ আদায়ের বিষয়টি ‘সাব্বির’ নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়। একটি মানবিক ও জরুরি সেবাকে কেন্দ্র করে এমন অর্থ দাবির অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
একই সঙ্গে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ফি থাকলেও সংশোধনের নামে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। নাগরিক সনদপত্র ইস্যুতেও জনপ্রতি ৫০০ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত অর্থ প্রদান ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ফাইল অগ্রসর হয় না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে ফাইল আটকে রাখা, অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি করা এবং পরবর্তীতে আর্থিক সমঝোতার ইঙ্গিত দেওয়ার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া সেখানে গড়ে উঠেছে। এতে করে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অনিয়মের সঙ্গে আপস করতে কিংবা দীর্ঘসূত্রতায় ভোগার শিকার হচ্ছেন।
মোঃ রিফাত হোসেনের গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের পূবাইল এলাকায়। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছেন বলে জানা গেছে। শিক্ষাগত পরিচয় ও সরকারি দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সিটি কর্পোরেশনের সেবা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগগুলোর বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মত দিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওয়ার্ড সেক্রেটারি মোঃ রিফাত হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।





