• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • সোমবার , ২২ জুন ২০২৬ ,২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • অপরাধ

    রাজউকে উচ্ছেদ বাণিজ্যে ইমারত পরিদর্শক অমিত হাসান

      নিজস্ব প্রতিনিধি ২২ জুন ২০২৬ , ৪:৩২:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ

    {"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

    রাজধানীতে পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে অনুমোদনহীন ও নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর গঠনের লক্ষ্যে পরিচালিত এসব অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ রোধে কঠোর অবস্থানের কথা বারবার জানিয়েছে সংস্থাটি। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সেই অভিযানের আড়ালেই গড়ে উঠেছে ভয়ংকর এক অভিযোগের জাল। অভিযানের ভয়, নোটিশের আতঙ্ক এবং আইন প্রয়োগের ক্ষমতাকে হাতিয়ার বানিয়ে কিছু অসাধু কর্মকর্তা কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রাজউকের সাব-জোন ৬/২-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমারত পরিদর্শক মোঃ অমিত হাসান। যাত্রাবাড়ী, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডগাইর, সানারপাড়, সিদ্ধিরগঞ্জ ও শিমরাইল এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ নিয়ে গঠিত এই জোনে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা এবং বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভবন মালিক।

    স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রাজউকের উচ্ছেদ অভিযানের নাম শুনলেই যেখানে নির্মাণকাজ বন্ধ হওয়ার কথা, সেখানে রহস্যজনকভাবে অনেক ভবনের কাজ অব্যাহত থাকে। অভিযোগ রয়েছে, ভবনের আয়তন, তলার সংখ্যা এবং নির্মাণ ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় ‘সমঝোতার অঙ্ক’। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্মাণাধীন ভবনে পরিদর্শনে গিয়ে নানা অনিয়মের কথা তুলে ধরে প্রথমে অফিসে দেখা করতে বলা হয়। এরপর নোটিশ, জরিমানা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ কিংবা উচ্ছেদ অভিযানের ভয় দেখিয়ে দাবি করা হয় মোটা অঙ্কের অর্থ।

    একাধিক ভবন মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, পূর্বে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকারী রাজউক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এমন মাত্রার হয়রানির শিকার হতে হয়নি। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। তাদের ভাষায়, “ভবনের উচ্চতা যত বেশি, দাবিকৃত অর্থের অঙ্কও তত বড়।”

    অনুসন্ধানে জানা যায়, মাতুয়াইল (আংশিক) ও সিদ্ধিরগঞ্জ (আংশিক) মৌজার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই অমিত হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগের মাত্রা বাড়তে থাকে। স্থানীয়দের দাবি, নকশাবহির্ভূত নির্মাণ শনাক্ত হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে রহস্যজনক কারণে কাজ বন্ধ হয়নি। বরং অভিযানের পরও নির্মাণকাজ স্বাভাবিক গতিতে চলতে দেখা গেছে।

    সবচেয়ে বিস্ময়কর অভিযোগ হলো, রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পরিচালিত অভিযানে যেসব ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ করা হয়েছে এবং নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেসব ভবনের অনেকগুলোর কাজ পরবর্তীতে পুনরায় শুরু হয়ে বর্তমানে প্রায় সমাপ্তির পথে। প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে এসব ভবনে পুনরায় নির্মাণকাজ চালানোর সাহস কারা জুগিয়েছে? কার ছত্রচ্ছায়ায় উচ্ছেদকৃত স্থাপনাগুলো আবারও মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে?

    স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, যদি উচ্ছেদ অভিযানের পরও অবৈধ নির্মাণ নির্বিঘ্নে চলতে পারে, তবে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; বরং এর পেছনে প্রভাবশালী কোনো সিন্ডিকেট কিংবা দুর্নীতির শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২ জুলাই ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তারের ছেলে মোঃ অমিত হাসান রাজউকের ইমারত পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চাকরি জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমান কর্মস্থলে এসে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং অবৈধ সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ ব্যাপকভাবে সামনে আসতে শুরু করেছে।

    অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, যেসব ভবনের বিরুদ্ধে রাজউক আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে, সেসব ক্ষেত্রেও উচ্ছেদ-পরবর্তী সময়ে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে পুনরায় নির্মাণকাজের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে রাজউকের আইন প্রয়োগ কার্যক্রম কতটা কার্যকর এবং মাঠপর্যায়ে তা কতটা সৎভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে গভীর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

    অভিযোগগুলোর বিষয়ে মোঃ অমিত হাসানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।