নিজস্ব প্রতিনিধি ১৭ জুলাই ২০২৫ , ৭:৩৮:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), যার কাজের বিস্তৃতি শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত, সেই সংস্থাটির শীর্ষ পদে বসেই প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশিদ মিয়া আজ পরিণত হয়েছেন দুর্নীতির এক ভয়ঙ্কর প্রতীক। এক সময়ের পল্লী উন্নয়নের ছোট্ট কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী এই প্রতিষ্ঠান এখন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের ঠিকাদারদের আখড়া, আর সেই আখড়ার গডফাদার আব্দুর রশিদ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দুর্নীতির ‘সম্রাট’ হিসেবে।
এলজিইডির প্রকৌশলী পরিচয়ের আড়ালে তিনি গড়ে তুলেছেন শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সাম্রাজ্য। প্রকৌশল সংবাদ-এর অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, সিন্ডিকেট বানিজ্য, প্রকল্পের ভাগ-বাটোয়ারা সবকিছুতেই তার রয়েছে সরাসরি হাত। প্রকল্পের অর্থ ছিনিয়ে নেয়ার জন্য এলজিইডির ভেতরে গড়ে তুলেছেন ভয়ংকর সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় ঠিকাদাররা যেমন কামায়, তেমনি মোটা অঙ্কের ভাগ জমা পড়ে প্রধান প্রকৌশলীর পকেটে।
বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, চলতি দায়িত্বের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশিদ মিয়া প্রায় ৮০ কোটি টাকার বিনিময়ে নিজের জন্য এই চেয়ার নিশ্চিত করেছেন। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী থাকা অবস্থাতেই তিনি এসব সিন্ডিকেট বাণিজ্য চালু করে স্থায়ী আয়ের পথ তৈরি করেন।
জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট আর রেস্টুরেন্ট – দুর্নীতির টাকায় গড়া সোনার খাঁচা
অবৈধ অর্থের পাহাড় বানিয়ে প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ নিজ জেলা সিরাজগঞ্জ থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত কিনেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী—
রাজধানীর বরুয়া মৌজায় ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন এলাকায় ৭ কাঠা জমি কিনেছেন, যার বাজার মূল্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা।
মোহাম্মদপুর শাজাহান রোড, ডি-ব্লকের ৩২/৩ হোল্ডিং নম্বরে রয়েছে ছয়তলা বাড়ি, যার মালিকানা তার নিজের নামে।
ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে স্ত্রীর নামে ফ্ল্যাট কিনেছেন, মালিকানা ফাতেমা জাকিয়া নামে।
সিরাজগঞ্জ হাইওয়ের পাশে ৬০ কাঠা জমিতে পরিচালিত হচ্ছে তার ‘ফুড গার্ডেন’ রেস্টুরেন্ট, যেখানে জমি এবং স্থাপনা মিলিয়ে বিনিয়োগ শত কোটি টাকার ওপরে।
ওই একই এলাকায় নিজের শ্যালকের নামে কিনেছেন জমি, নির্মাণ করেছেন দুটি পাঁচতলা বাড়ি।
নিজ গ্রাম কাজিপুর উপজেলাতেও গড়েছেন বিপুল সম্পদের পাহাড়।
এ প্রশ্ন উঠে এসেছে— এলজিইডির প্রকৌশলী হিসেবে মাসিক বেতনে এত সম্পদ কীভাবে সম্ভব? উত্তরে সবাই জানে, কিন্তু কেউ মুখ খোলে না— কারণ এই কর্মকর্তা ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ের’ আশীর্বাদপুষ্ট।
প্রশ্ন শুনলেই ফোন কেটে দেন, আবার ফোন ধরেন না
এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশিদ মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রথমবার ফোন ধরলেও প্রশ্ন শুনেই তিনি কল কেটে দেন। এরপর থেকে আর ফোন ধরেননি।
আরও বড় চিত্র সামনে আসছে
এলজিইডির ভেতরে মোঃ আব্দুর রশিদ মিয়ার মতো আরও অসংখ্য দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী রয়ে গেছে, যারা ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের পয়সায় বাড়ি-গাড়ি-ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। তাদের নিয়ে আরও বিস্ফোরক অনুসন্ধান খুব শিগগির প্রকাশ করবে প্রকৌশল সংবাদ।
চলবে…











