প্রতিনিধি ২৯ মে ২০২৫ , ৯:১৪:৪৪ প্রিন্ট সংস্করণ
মোহাম্মদ শামীম হোসেন—রাজউকের মহাখালী জোনের কথিত ইমারত পরিদর্শক, কিন্তু বাস্তবতা বলছে, তিনি একজন লালফিতার ফাঁদে হিরন্ময় দুর্নীতির রাজা। ‘সরকারি কর্মকর্তা’ পরিচয়ের ছদ্মবেশে এক ভয়ংকর কুৎসিত সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি, যার বিষাক্ত বিস্তার রাজধানীর নির্মাণখাতকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গেছে।
এই উচ্চাভিলাষী দুর্নীতিবাজ—ইঞ্জিনিয়ার শরিফ নামের এক ছায়াদালালের মাধ্যমে রাজধানীর স্পর্শকাতর অঞ্চল—উত্তরা, নিকুঞ্জ ও বারিধারায় গড়ে তুলেছেন প্লট, বিল্ডিং, শপিং কমপ্লেক্স ও গোপন বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যের মহাকাব্য। সীমিত সরকারি বেতনের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন একজন ‘ছায়া ডেভেলপার’, যার কালো অর্থের উত্স খুঁজতে গেলে দেখা যায় রাষ্ট্রযন্ত্রের নৈতিক পতনের নগ্ন প্রতিচ্ছবি।
সূত্র বলছে—তিনি নন, বরং তার দপ্তরটাই যেন দুর্নীতির দুর্গ। অনুমোদনের নামে ফাইল জিম্মি করে কোটি টাকার বাণিজ্য, অপরিকল্পিত ও অবৈধ স্থাপনায় ‘অনুকূল’ প্রতিবেদন প্রদান, আর নিয়মনীতি অগ্রাহ্য করে নগরের শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টির ষড়যন্ত্র—এসব যেন শামীম হোসেনের প্রতিদিনের কর্মতালিকা। যিনি আইন মানতে চায়, তার জন্য রয়েছে হেনস্তা, হয়রানি, আর দপ্তরের কালো গহ্বরে হারিয়ে যাওয়ার নির্মম বাস্তবতা। আর যারা ঘুষ ও ‘খেলা’র নীতি বোঝে, তাদের জন্য খোলা থাকে সোনার ফটক।
এই অবিশ্বাস্য সম্পদের স্রোত গিয়ে মিশেছে সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে—তাঁর পৈতৃক আবাসভূমিতে। সেখানেই মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে তার দুর্নীতির প্রাসাদ: একের পর এক জমি, আলিশান বাড়ি, খামারবাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ির বহর, যেন এক ভূতের রাজার অট্টহাসি।
তাঁর নিজের ও বেনামী একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিদেশে পাচার হওয়া কালো টাকা, সহকর্মীদের ছত্রছায়ায় পরিচালিত মানি লন্ডারিংয়ের সুগন্ধ—সবকিছু মিলিয়ে স্পষ্ট হয়, শামীম হোসেন একা নন। বরং একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতির চক্র, যারা ক্ষমতার মদদে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঢাল নিয়ে, পুরো নির্মাণখাতকে পরিণত করেছে এক নীরব দখলযুদ্ধে।
এ যেন শকুনের থাবায় শহরের ভবিষ্যৎ।
এখানেই শেষ নয়…
চলবে…











