• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • বৃহস্পতিবার , ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ,১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • অপরাধ

    রাজউকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে অথরাইজড অফিসার ইলিয়াসের দুর্নীতি

      নিজস্ব প্রতিনিধি ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ , ১:১৬:৩৪ প্রিন্ট সংস্করণ

    রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন জোন ৫/২-এর অথরাইজড অফিসার মো. ইলিয়াস। তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাজউকের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে।

    অবৈধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন
    রাজউকের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াসের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে, যারা উচ্ছেদ অভিযান থেকে শুরু করে ভবনের নকশা অনুমোদন—সবকিছুতেই ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, উচ্ছেদ অভিযানের নামে অনেক সময় ভবন মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হয়। এরপর নামমাত্র নোটিশ দিয়ে কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।

    ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণে সহযোগিতা
    সিন্ডিকেটের সহযোগিতায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। কখনো এসব ভবনের উচ্ছেদ প্রস্তাব পাশ হলেও তা ইলিয়াসের সিন্ডিকেটের কারণে ধামাচাপা পড়ে যায়। ভবন মালিকদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে অবৈধ অংশ রক্ষা করার চুক্তি করা হয়, যা ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা সৃষ্টি করছে।

    গ্রাহক হয়রানি ও ফাইল আটকে রাখা
    নকশার আবেদন থেকে শুরু করে অনুমোদন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের মাসের পর মাস হয়রানি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ফাইল আটকে রেখে ঘুষ আদায় করা ইলিয়াস সিন্ডিকেটের নিয়মিত কাজ। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়।

    কর্মচারীদের প্রতি হুমকি ও অসদাচরণ
    ইলিয়াসের বিরুদ্ধে তার অফিসের সৎ কর্মকর্তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগও উঠেছে। একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, অনিয়মের প্রতিবাদ করলেই ইলিয়াস তাঁদের হুমকি দেন।

    অবৈধ সম্পদের পাহাড়
    নাম-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন ইলিয়াস। ঢাকায় বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি, প্লট এবং নিজ এলাকায় অঢেল সম্পত্তি করেছেন তিনি। অথচ তার চাকরির আয়ের সঙ্গে এই সম্পদের কোনো মিল নেই।

    সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
    ভুক্তভোগী গ্রাহক ও সৎ কর্মকর্তারা ইলিয়াসের দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যদি সঠিকভাবে তদন্ত করে, তবে ইলিয়াসের অবৈধ কার্যক্রম এবং সম্পদ অর্জনের তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

    রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে ইলিয়াস সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

     

    রাজউকের চেয়ারম্যানের সততা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান

    এদিকে রাজউকের চেয়ারম্যানের সৎ নেতৃত্ব এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান বারবার প্রশংসিত হয়েছে। তিনি রাজউকের স্বচ্ছতা এবং কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজউকের ভাবমূর্তি রক্ষা ও উন্নততর সেবা নিশ্চিত করতে তিনি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন।তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটমুক্ত করতে কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না। তার এই সততা ও কঠোর অবস্থান রাজউকের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।