প্রকৌশল সংবাদ ১৩ জুন ২০২৫ , ৪:১৮:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
এম এইচ মুন্না: প্রকৌশলী জিবরীলের বেপরোয়া লুটপাটে এলজিইডি-ই যেন ফোকলা হতে চলেছে। বীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জিবরীল শুধু নিজের দপ্তরের অনিয়ম, দুর্নীতির অপকর্ম করেই ক্ষ্যান্ত থাকেন না, তিনি অন্যান্য বিভাগ ও সেকশনের টেন্ডারবাজিরও নেপথ্য নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছেন। যে কোনো বিভাগের টেন্ডার তৎপরতা শুরু হলেই নড়েচড়ে বসেন প্রকৌশলী জিবরীল। তার আস্থাভাজন ঠিকাদার সিন্ডিকেটকে কাজ পাইয়ে দিতে চলতে থাকে তার ফন্দিফিকির। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে গোপন পথে টেন্ডার কাজ বাগিয়ে নেয়ার তদবিরবাজিতেই বেশি আগ্রহ তার। তবে এ কৌশল সফল না হলে জিবরীল আঙুল বাঁকা করতেও বিন্দুমাত্র সময় ক্ষেপণ করেন না।
টেন্ডার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের নাম, পরিচয়, সাক্ষর ব্যবহার করে একগাদা মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেন দপ্তরে দপ্তরে। সেসব স্থানে টাকা ছিটিয়ে তদন্তের নামে হয়রানিও চালাতে থাকেন। অবস্থা বেগতিক দেখে জিবরীলকে সঙ্গে নিয়েই টেন্ডার কাজ সমঝোতা করে তবেই রেহাই মেলে। এমন অপরাধ অপকৌশলে ওই ধূর্ত প্রকৌশলী লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিতর্কিত এই প্রকৌশলীর পুরো নাম হচ্ছে জিবরীল আহাম্মদ। তিনি চর রাজিবপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকাবস্থায় ঠিকাদারদের সঙ্গে গোপন আঁতাত গড়ে তোলেন এবং এলাকা ভিত্তিক টেন্ডার সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠার বীজ বপন করেন। পরবর্তীতে বীরগঞ্জে বদলি হয়ে আসার পর সেই সিন্ডিকেটকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করে তোলেন। অসাধু এক দাপুটে কর্মকর্তার যাবতীয় অপকর্ম, গোপন অর্থের লেনদেন, অনৈতিক চুক্তি ও সিন্ডিকেট চক্রের মূলে তিনিই। নিজেই নিয়ন্ত্রণ করেন একাধিক ঠিকাদার গ্রুপ—যারা এলাকা ভিত্তিক টেন্ডার “ম্যানেজ” করে থাকে তার নির্দেশনায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিবরীল আহাম্মদের দপ্তরে কাজ পেতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে তার পছন্দের ঠিকাদার চক্রের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়। এতে প্রতিবাদ বা অসহযোগিতা দেখালে শুরু হয় হয়রানি, মিথ্যা অভিযোগ, কাজ বাতিল কিংবা কালো তালিকাভুক্তির হুমকি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিতভাবে প্রতিটি প্রকল্প থেকে ৫% হারে কমিশন আদায় করেন। এই কমিশনের অর্থ কোথায় যায়, কারা ভাগ পায়—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থাকলেও, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বছরের পর বছর ধরেই এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন এই প্রকৌশলী।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও প্রকৌশলী জিবরীল আহাম্মদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এখানেই শেষ নয়…
চলবে!!











