নিজস্ব প্রতিনিধি ১৬ জুলাই ২০২৫ , ৬:০২:৪৯ প্রিন্ট সংস্করণ
ঈশ্বরগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে এই পিআইও’র বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়াবহ সব অভিযোগ। লুটপাট, প্রকল্পের টাকা ভাগবাটোয়ারা, স্বজনপ্রীতি আর প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য এখন ওপেন সিক্রেট। শুধু ঈশ্বরগঞ্জ নয়, গোটা ময়মনসিংহবাসী জানে—প্রকল্পের নামে যে টাকা আসে, তার বড় অংশ চলে যায় রেজাউল করিম ও তার ঘনিষ্ঠ মহলের পকেটে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই সরকারি কর্মকর্তার নামে রাজধানী ঢাকার অভিজাত উত্তরা এলাকায় রয়েছে বহুমূল্য বাড়ি, ময়মনসিংহ শহরের আকুয়া এলাকায় রয়েছে জমি, ব্যাংকে মোটা অঙ্কের টাকা—এসবই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত। একজন সরকারি কর্মচারীর পক্ষে এসব সম্পদের মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ঘোর সন্দেহ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আরও ভয়াবহ অভিযোগ হলো—সাবেক সংসদ সদস্য বাবেল গোলন্দাজের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকল্পে মোটা অঙ্কের লেনদেন করে থাকেন রেজাউল করিম। প্রকল্পের বিল থেকে শুরু করে তালিকা প্রস্তুত, এমনকি ঠিকাদার নির্ধারণ পর্যন্ত—সব কিছুতে চলে তার একচ্ছত্র আধিপত্য। তার আশপাশে গড়ে তোলা হয়েছে সুবিধাভোগীদের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যারা এই দুর্নীতির লুটপাটের অংশীদার।
সম্প্রতি এক ভাড়াটিয়া ও শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এই পিআইও’র বিরুদ্ধে। নিজের ক্ষমতার মোহে তিনি এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন যে, সরকারি পদে থেকেও সাধারণ নাগরিককে নির্যাতন করতে কোনো রকম দ্বিধা করছেন না। জনমনে এই ঘটনা ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ঈশ্বরগঞ্জবাসীর প্রশ্ন—এ কোন্ সরকারি কর্মকর্তা, যার হাতে নিরাপদ নয় সাধারণ মানুষও?
এখানেই শেষ নয়। পুলিশের দায়িত্ব পালনেও বাধা দেওয়ার নোংরা অপচেষ্টা চালিয়েছেন রেজাউল করিম। এসআই সোহেল রানার ওপর ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে তদন্তে বাঁধা দেওয়া, তথ্য গোপন করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর প্রভাব বিস্তারের এই চেষ্টা কেবল তার দম্ভ আর লুটপাটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।
চলবে…











