এম এইচ মুন্না ২৭ মে ২০২৫ , ২:৩৫:৩৮ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রকৌশল সংবাদ: রাজউকের অভ্যন্তরস্থ আমলাতান্ত্রিক দংশনের ভেতর এক অশুভ উপনিবেশের নায়ক হয়ে উঠেছেন জোন ৫/২-এর অথরাইজড অফিসার মোঃ ইলিয়াস। নিয়ম-নীতির লাশ ফেলে, শুদ্ধাচার নীতিমালাকে ভ্রুক্ষেপহীন উপহাসে পরিণত করে তিনি গড়ে তুলেছেন এক ভয়ানক প্রশাসনিক সিন্ডিকেট—যেখানে ‘সেবা’ নামক শব্দটি পরিণত হয়েছে শুধুই এক নির্লজ্জ বাণিজ্যিক পণ্যতে।
প্রতিটি নকশা অনুমোদনের আগে মোঃ ইলিয়াসের টেবিল যেন এক ‘চুক্তিভিত্তিক দরকষাকষির ব্যাঙ্ক কাউন্টার’। অভিযোগ রয়েছে, নগরবাসীর কষ্টার্জিত কাগজপত্র তার টেবিলে থেমে থাকে শুধুমাত্র এক অলিখিত অঙ্ক পূরণের অপেক্ষায়। ফাইল আটকে রাখার নামে নির্মিত হয়েছে একটি “নীরব জিম্মি প্রশাসন”—যেখানে ঘুষই হয়ে উঠেছে মুক্তিপত্র।
প্রকৌশল নীতিমালার প্রতি নিছক তাচ্ছিল্য দেখিয়ে তিনি বারবার ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা গড়ে তোলার বৈধতা দিয়েছেন। ফলাফল—নগরীর বুকজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ভবিষ্যতের মৃত্যুফাঁদ। নির্মাণ আইন লঙ্ঘনের এই ধারাবাহিকতা প্রকৌশল বিশ্বে এক কলঙ্কচিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হবে।
রাজউকের নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা ইলিয়াসের হাতে রূপ পেয়েছে ‘প্রতিশোধমূলক উচ্ছেদের অস্ত্র’ হিসেবে। অভিযোগ রয়েছে, অর্থ না দিলে নির্দয়ভাবে ঘর বা দোকান উচ্ছেদ করা হয়—যা আইন নয়, একপ্রকার ব্যক্তিগত আগ্রাসনের প্রকাশ।
স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও দালালচক্রের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি গড়ে তুলেছেন এক প্রশাসনিক সিন্ডিকেট—যেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহৃত হচ্ছে কেবল ব্যক্তি ও দলীয় সুবিধা রক্ষার্থে। এই সিন্ডিকেটই গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোকে প্রভাবিত করছে এবং বিরুদ্ধস্বরে চালানো হচ্ছে দমন-পীড়ন।
সরকারি বেতনের সীমা পেরিয়ে মোঃ ইলিয়াসের আর্থিক সাম্রাজ্য এখন প্রশ্নবিদ্ধ। জমি, বিলাসবহুল গাড়ি, অঢেল সম্পদের যে চিত্র উঠে এসেছে—তা দুর্নীতির মূল ব্যাকরণকেই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে।
জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা নয়, বরং অহংকারে সিক্ত আচরণই হয়ে উঠেছে তাঁর নিত্যদিনের হাতিয়ার। নাগরিক সেবার নামে চলা এই বৈধ অত্যাচার প্রশাসনিক
এবিষয়ে মোঃ ইলিয়াসকে একাধিকবার কল ও হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ প্রেরণ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানাননি। তাঁর এই নীরবতা অভিযোগগুলোর সত্যতা ঘিরে জনমনে আরও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
চলবে….











