• ঢাকা, বাংলাদেশ    
  • সোমবার , ২৩ জুন ২০২৫ ,২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • প্রকৌশল সংবাদ

    ফ্যাসিস্টের দোসর এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী রনজিত দে

      নিজস্ব প্রতিনিধি ২৩ জুন ২০২৫ , ৬:১৮:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ

    এলজিইডির পিরোজপুর অফিসে দুর্নীতির অন্ধকার অধ্যায়ের মূল চরিত্র—সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের আশীর্বাদপুষ্ট প্রকৌশলী রনজিত দে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন পিরোজপুরে যোগদান করেই প্রশাসনিক কাঠামোকে নিজ দখলে নিয়ে শুরু করেন রাষ্ট্রীয় অর্থসম্পদের নিষ্ঠুর লুণ্ঠন। যোগদানের পর থেকেই তিনি মহারাজ ও তার ভাই মিরাজুল ইসলামের নির্দেশে পিরোজপুরের উন্নয়ন বাজেটকে পরিণত করেন ব্যক্তিগত কমিশন কামানোর মরণযন্ত্রে।

    মাফিয়া কাঠামোর মতো এই সিন্ডিকেট একদিকে যেমন বরাদ্দের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট করে, অপরদিকে প্রশাসনিক নির্দেশ উপেক্ষা করে চালিয়ে যায় সীমাহীন ক্ষমতার অপপ্রয়োগ। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা ও সড়ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ১০টি প্যাকেজের কাজ অসমাপ্ত রেখেই তিনি অনুমোদন দেন ৪৪ কোটি ২০ লাখ টাকার বিল। চুক্তি বহির্ভূত প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করেন আরও ১২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, যার এক অংশ সরাসরি বেনামে পাচার হয়ে যায় ঢাকার ল্যাবরেটরি রোডের দালালদের ঘরে।

    এই দুর্নীতির পাহাড় গড়ার পর ২০২৫ সালের ৩ জুন রনজিত দে-কে কুড়িগ্রামে বদলি করা হলেও, তিনি সরকারের আদেশ অগ্রাহ্য করে যোগদান করেননি। বরং, এক ধরনের আমলাতান্ত্রিক বিদ্রোহ চালিয়ে নিজের অপকর্ম ঢাকতে থাকেন। যথারীতি, বিভাগীয় নোটিশ উপেক্ষা করে সাড়া না দেওয়ায় তিনি সাময়িক বরখাস্ত হন। অথচ এর মধ্যেই গোপনে নানা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এই দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে হরিদাস হালদার শিপন নামের এক ব্যক্তি গত মার্চ মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের মূল প্রতিপাদ্য—সরকারি প্রকল্পে কাজ না করেই বিল উত্তোলন, ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সুবিধা প্রদান এবং বরাদ্দের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ পাচার।

    এখন প্রশ্ন—এই ভয়ংকর অর্থপিশাচ কতদিন ধোঁয়া তুলে পার পাবে?

    দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্ব শুধু কাগজে কলমে চিঠি চালানো নয়—এখন সময় এসেছে রনজিত দে’র মতো রাষ্ট্রঘাতক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার। তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে দুর্নীতির মামলা দায়ের, ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং রাষ্ট্রীয় চাকরি থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি এখন সময়ের অনিবার্য দাবিতে পরিণত হয়েছে।

    জনগণ জানতে চায়—রনজিত দে’র মুঠোফোন কেন বন্ধ? সে কোথায় লুকিয়ে আছে? আর কতটা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে সে দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তোলে? এসব প্রশ্নের জবাব না পাওয়া পর্যন্ত “মহারাজ-রনজিত-প্রকল্প সিন্ডিকেট” এই রাষ্ট্রীয় যন্ত্রকে পঙ্গু করে তুলবে।

    ফ্যাসিস্ট রাজনীতির দোসর রনজিত দে কেবল একজন দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী নয়—সে এই রাষ্ট্রব্যবস্থার মূলে পচনের অন্যতম নিদর্শন। এখন সময় এসেছে তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর।