নিজস্ব প্রতিনিধি ১২ জুলাই ২০২৫ , ৬:০৮:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর সহকারী পরিচালক (নিরীক্ষা) নাদিয়া আহমেদ টুম্পার অধীনে গড়ে উঠেছে এক দুর্নীতির রাজ্য, যার নাম—‘টুম্পা সিন্ডিকেট’। সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা শাখায় কর্মরত এই কর্মকর্তা এখন যেন একটি সমান্তরাল ঘুষ-শাসিত প্রশাসনের সম্রাজ্ঞী। তাঁর হাতেই যেন আটকে আছে সাধারণ নাগরিক, ডেভেলপার এবং ফ্ল্যাট মালিকদের ন্যায্য অধিকার।
প্রতিদিন রাজউকের নিরীক্ষা শাখায় জমা পড়ে শত শত গুরুত্বপূর্ণ ফাইল—ফ্ল্যাট হস্তান্তর, নামজারি, জমির মালিকানা পরিবর্তন, কিংবা কমিশনের প্রতিবেদন সংক্রান্ত। কিন্তু এসব ফাইল চলবে কি চলবে না, তা নির্ধারিত হয় একটি মাত্র ভিত্তিতে—ঘুষের পরিমাণ কত।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, টুম্পা প্রতিদিনই ঘুষ ছাড়া একটি স্বাক্ষরও করেন না। তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এক উপপরিচালককে নিয়ে গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত মাশোহারা আদায় করা হয় নিয়মিত। প্রতি মাসে এই চক্রের ঘুষ বাণিজ্যের পরিমাণ কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কোনো ব্যক্তি ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা সিনিয়র কারও রেফারেন্সে কাজ করাতে চাইলে, শুরু হয় ভয়াবহ হয়রানি। ফাইল গায়েব করে দেওয়া, ভুল তথ্যসংবলিত চিঠি ইস্যু, কিংবা বারবার নতুন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে গ্রাহককে জিম্মি করা হয়। অনেক সময় দেখা যায়, একটি সাধারণ ফাইল আটকে রাখা হয় মাসের পর মাস—শুধু ঘুষ না দেওয়ার ‘অপরাধে’।
জমির তদন্ত কিংবা কমিশনের নামে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করা হয় সরাসরি। এমনকি রাজউকে হাজিরা দিতে গেলেও ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ফি’ দিতে হয়, যা কার্যত ঘুষ ছাড়া কিছু নয়। অভিযোগ রয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রাহকদের বিরুদ্ধে ভুল তথ্যসংবলিত চিঠি ইস্যু করে পরে টাকার বিনিময়ে তা সংশোধন করা হয়।
রাজউকের ভেতরে এ চক্রের দৌরাত্ম্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাজারো সাধারণ মানুষ। ‘সহকারী পরিচালক’ নামমাত্র পদে থেকে কীভাবে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি চালিয়ে যেতে পারেন—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক মহলেও। অথচ এত অভিযোগের পরও আজ পর্যন্ত কোনো ধরনের বিভাগীয় তদন্ত কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কথা সরকার যতই বলুক, বাস্তবে নাদিয়া আহমেদ টুম্পার মতো কর্মকর্তারা প্রমাণ করে চলেছেন যে, কিছু প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ এখনও অপ্রতিরোধ্য। জনগণের হক, জমি, ও আবাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য।
এ বিষয়ে সহকারী পরিচালক নাদিয়া আহমেদ টুম্পার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
চলবে….











