প্রতিনিধি ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ , ৪:৫৬:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুর অঞ্চলের অগ্রণী ব্যাংক থেকে গোপনে প্রকাশিত একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে, যেখানে বলা হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের দলের প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের বসানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিশেষত, বিএনপিপন্থী কর্মকর্তাদের পরিকল্পিত বদলি এবং দলীয় প্রভাবের মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রমে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার অভিযোগ উঠেছে। সাবেক স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এমন অশুভ প্রভাব ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা ও দপ্তরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রায় সকলেই সরাসরি আওয়ামী লীগের সংগঠন ও কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। তারা দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিজেদের পেশাগত কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করছেন, যার কারণে ব্যাংকিং নীতিমালা ও স্বচ্ছতার প্রতি আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে।
এদের মধ্যে কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা উল্লেখযোগ্য, যারা দলের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বে আছেন এবং তাদের দলীয় প্রভাবের কারণে ব্যাংকের কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন:
হাফিজুর পিরু, প্রিন্সিপাল অফিসার ও ম্যানেজার, পীরগঞ্জ শাখা, রংপুর জেলা বঙ্গমাতা পরিষদের সভাপতি,
আতিয়ার রহমান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও ম্যানেজার, জলঢাকা শাখা, রংপুর জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি,
আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিনিয়র অফিসার, রংপুর শাখা, রংপুর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক,
মাহফুজ মাওলা, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার, রংপুর সার্কেল,
আব্দুর রাজ্জাক, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার, রংপুর জোনাল অফিস,
লুৎফর রহমান, ইউডিএ, মেডিকেল কলেজ শাখা, সিবিএ আওয়ামী লীগ নেতা,
মো. আমিনুল ইসলাম, প্রিন্সিপাল অফিসার, রংপুর শাখা, জিএমের পিএস,
মো. শফিউল আলম, প্রিন্সিপাল অফিসার, রংপুর শাখা,
মো. জিয়াউর রহমান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার, মেডিকেল কলেজ শাখা,
মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার, রংপুর প্রধান শাখা,
মো. মাহবুবুল ইসলাম, এজিএম, রংপুর সার্কেল।
ব্যাংকটির সাধারণ কর্মচারীরা অভিযোগ করছেন, দলীয় পরিচয় দিয়ে কর্তৃপক্ষের প্রভাব সৃষ্টির ফলে তাদের পদোন্নতি এবং কর্মক্ষেত্রে মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এক্ষেত্রে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে যারা প্রকৃত দক্ষ এবং যোগ্য, তারা কর্মক্ষেত্রে সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, বিএনপিপন্থী কর্মকর্তাদের পরিকল্পিতভাবে বদলি করা হচ্ছে, যার ফলে পুরো ব্যাংকিং কার্যক্রমে আওয়ামী লীগের নেতাদের একাধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
এ ধরনের দলীয় প্রভাবের কারণে ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ কর্মচারীরা সঠিক মূল্যায়ন ও পদোন্নতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যাংকিং খাতে এমনভাবে বিস্তার লাভ করলে, এর ফলে ব্যাংকিং সেবার মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ জনগণের আস্থাহীনতা সৃষ্টি হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে অনেক কর্মচারী এবং বিশেষজ্ঞরা দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, ব্যাংকের নীতিমালা ও স্বচ্ছতা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে দলের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে ব্যাংকিং খাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায়।











