প্রতিনিধি ১৩ অক্টোবর ২০২৬ , ৫:২৫:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ
তদবির-সংস্কৃতি, বদলি-বাণিজ্য ও দুর্নীতির শিকড়ে কুঠারাঘাত করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের আমলাতান্ত্রিক অচলাবস্থা চূর্ণ করতে ধারাবাহিক ও সাহসী প্রশাসনিক পদক্ষেপের সূচনা করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। জটাজালে আচ্ছন্ন প্রশাসনিক যন্ত্রে নিশ্ছিদ্র স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও জবাবদিহিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে তার উপস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে সংস্থাটির আরও ১৫৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলীকে একযোগে বদলি ও পদায়নের অভূতপূর্ব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এই রুদ্ধশ্বাস লটারি-যজ্ঞের মাধ্যমে ১৫৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলীকে নতুন কর্মস্থলে পদায়িত করা হয়। এই দূরদর্শী প্রক্রিয়ায় অধিদপ্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ২০টি জোন বা বিভাগে যোগ্য ও দক্ষ প্রকৌশলীদের পদায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাজনিত কৌশলের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংসদ সচিবালয়সহ তিন থেকে চারটি সংবেদনশীল দপ্তরে আপাতত পদায়ন স্থগিত রেখে পরবর্তীতে সিদ্ধান্তের তালিকায় রাখা হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এই মহাযজ্ঞে মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার রন্ধ্রে রন্ধ্রে সুশাসন কায়েমে এবং দুর্নীতির বলয় ভাঙতে জাকারিয়া তাহেরের নেতৃত্বেই এর আগে পর্যায়ক্রমে ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী, ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল), ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী এবং ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১ হাজার ৪৩০ জন প্রকৌশলীকে লটারির নিরপেক্ষ ছাঁচে ফেলে বদলি ও পদায়নের মাধ্যমে পূর্ত ভবনের ইতিহাসে এক অনন্য সংস্কারের মাইলফলক উন্মোচন করা হলো।
লটারি প্রক্রিয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য একটাই- বদলি-বাণিজ্য বন্ধ করা, সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া। যোগ্য লোককে যোগ্য জায়গায় বসাতে চাই। গণপূর্ত অধিদপ্তরকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই। পদায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের অতীতের কাজ, কর্মদক্ষতা ও চাকরির রেকর্ড বিবেচনায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় লটারির মাধ্যমে পদায়ন করা হচ্ছে, যেন কেউ নিজের পছন্দ অনুযায়ী পদ বেছে নেওয়ার বা কোনো অনিয়ম করার সুযোগ না পান।”
যান্ত্রিক প্রশাসনিক কড়াকড়ির মধ্যেও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে এই প্রক্রিয়ায়। গর্ভবতী নারী কর্মকর্তা, প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে এমন কর্মকর্তা এবং গুরুতর অসুস্থ বাবা-মায়ের পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আবেদনের বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে এবং তাদের সুবিধা অনুযায়ী পদায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের সার্বিক প্রশাসনিক সংস্কার ও সরকারি সম্পত্তি সুরক্ষায় মন্ত্রী আরও জানান, বদলি-পদায়নের পাশাপাশি সরকারি জমি ব্যবস্থাপনা ও আবাসন সেবায় পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোর জমির তথ্য নিয়ে একটি আধুনিক ‘ল্যান্ড ব্যাংক’ তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। লটারির পাশাপাশি ডিজিটাল আবাসন বরাদ্দসহ সর্বাত্মক ডিজিটাইজেশন চালুর মাধ্যমে পূর্তের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সুশাসন ও সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।










