নিজস্ব প্রতিনিধি ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৭:৩৮:২০ প্রিন্ট সংস্করণ
বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের আমলে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের তালিকায় তার নাম শীর্ষে রয়েছে বলে জানা গেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারসাজি, অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন এবং ঠিকাদার নিয়োগে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ফয়সাল আলম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। ঝালকাঠিতে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক অনিয়মে জড়িয়ে পড়লেও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের আশীর্বাদে পার পেয়ে যান তিনি। ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা তার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে বরিশালে বদলি হয়ে এখানকার গণপূর্ত বিভাগকেও দুর্নীতির আতুরঘরে পরিণত করেছেন তিনি।
বরিশাল গণপূর্ত ভবনের সূত্রে জানা যায়, মডেল মসজিদ, দুদক ভবন ও আনসার ভবনসহ একাধিক প্রকল্পে তিনি গোপন সমঝোতার মাধ্যমে খান বিল্ডার্স ও খান ট্রেডার্সকে কাজ পাইয়ে দিচ্ছেন। এমনকি বাতিল হওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেই পুনরায় জেবি (জয়েন্ট ভেঞ্চার) এর মাধ্যমে সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। টেন্ডারের শর্ত ভঙ্গ করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সাধারণ ঠিকাদাররা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, উল্টো তাদের প্রতি উদ্ধ্যত্বপূর্ণ আচরণ করেন এই নির্বাহী প্রকৌশলী।
সরকারি কর্মকর্তা হয়েও ফয়সাল আলম প্রকাশ্যে নৌকার ব্যাজ গায়ে লাগিয়ে নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন। পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের সাথে সাথে তিনি নিজেকে বিএনপিপন্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠার অপতৎপরতা শুরু করেছেন। সম্প্রতি তিনি বরিশাল আইইবির নবগঠিত কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদেও জায়গা করে নেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ফয়সাল আলম ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তঘর এলাকার বাসিন্দা এবং প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে দীর্ঘদিন পরিচিত। আমুর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তিনি ঝালকাঠিতে ব্যাপক দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন।
এখানেই শেষ নয়… চলবে!!!











